ডারবিন, ১৬ আগস্ট— জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মঞ্চে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করলেন ‘ফুটস্টেপস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী। আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৫ উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের ‘জুলাই আন্দোলন’-কে বৈশ্বিক যুব নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আবার স্বপ্ন দেখতে শিখেছে, কারণ তরুণরা দেশকে নতুন সুযোগ দিয়েছে।”
তরুণদের নেতৃত্বেই ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ের বার্তা
বক্তব্যে শাহ রাফায়াত স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনের প্রথমবার্ষিকী, যখন দেশের হাজারো তরুণ অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিল—শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়, অধিকার ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু একটি মুহূর্ত নয়—বরং এটি হয়ে উঠেছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্লোবাল ইয়ুথ মুভমেন্টের অংশ। এই আন্দোলন বিশ্বকে দেখিয়েছে, কীভাবে একটি দেশের তরুণ সমাজ সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
জাতিসংঘের মূল বার্তার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ বাংলাদেশ
এ বছরের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজে যুব নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি”। শাহ রাফায়াত বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এই বার্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঙ্কটকালেও যদি তরুণরা একত্রিত হয়, তবে তারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
তিনি বিশ্বজুড়ে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান— “আপনারা শুধু ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নন, আপনারা বর্তমানের নেতৃত্ব। পরিবর্তনের আগুন আপনাদের ভেতরেই জ্বলছে। এখন সময়, সেই আগুনকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করার।”
ফুটস্টেপসের এক দশকের কাজও উঠে আসে আলোচনায়
শাহ রাফায়াত তার প্রতিষ্ঠান ফুটস্টেপস-এর কাজ নিয়েও আলোচনা করেন, যা বিগত এক দশক ধরে বাংলাদেশের দূরবর্তী জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ পানি, জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে কাজ করে আসছে।
এই প্রকল্পগুলোতে দেশের হাজারো তরুণ স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান তৈরি করছেন। এর মধ্য দিয়েই গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব।
“জুলাই আন্দোলন এখন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়…”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শাহ রাফায়াত বলেন, “জুলাই আন্দোলন এখন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়—এটি বিশ্বব্যাপী তরুণদের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের অংশ। এটি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে এক নতুন পরিবর্তনের গল্প বলে যাচ্ছে।”
জাতিসংঘে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের এই গর্বিত প্রতিনিধিত্ব শুধু একটি আন্দোলনের গল্প নয়—এটি একটি প্রজন্মের জাগরণ, বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া যে, পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে একটি দেশের যুবশক্তি।