স্বাগতম ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ
ডারউইন, ১৪ এপ্রিল: নতুন আশার বার্তা নিয়ে শুরু হলো ১৪৩৩ বাংলা সন। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে বরণ করা হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে…
ডারউইন, ২০ নভেম্বর-
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ২০১১ সালে দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের আপিল বিভাগ। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, পরের নির্বাচন থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন সর্বসম্মতিতে মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ এ রায় দেয়।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অন্য ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর এই মামলার আপিল শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করে আদালত।
আদালতে এ সংক্রান্ত রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। এছাড়া ইন্টারভেনার হিসেবে শুনানি করেন আইনজীবী এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, বদরুদ্দোজা বাদল, মহসীন রশিদ ও শাহরিয়ার কবির।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ২০১১ সালের ১০ মে রায় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। সেই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদনের ওপর গত ২১ আগস্ট থেকে শুনানি শুরু হয়। মোট ১০ কার্যদিবস শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ঠিক করেন।
গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১৪ বছর আগের এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক রিভিউ আবেদন করেন।
ত্রয়োদশ সংশোধনী ও বাতিলের প্রেক্ষাপট
১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮ক, ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়।
১৯৯৯ সালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন।
২০১২ সালে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে।
আইনজীবীদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দুইভাবে বাতিল হয়েছিল- আদালতের রায়ে এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তাই রিভিউ শুনানিতে পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়ে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা যথাযথভাবে ফিরে আসতে পারে।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ফিরিয়ে এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধেও পৃথক লিভ টু আপিল করা হয়েছে, যা গত ১৩ নভেম্বর মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ।