পদত্যাগের পরও আজীবন যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন
ডারউইন, ২৫ জুলাই: পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিন। তবে সাংবিধানিক দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি আজীবন অবসরভাতাসহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা…
ডারউইন, ১৯ আগস্ট- বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) বলেছে, তারা ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা করবে। সেলক্ষ্যে আগামী নভেম্বরের মধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করতে চায় সাংবিধানিক সংস্থাটি।
এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই রোডম্যাপ (কর্মপরিকল্পনা) প্রকাশ করবে এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন।
কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সোমবার এ নিয়ে ইসিতে বৈঠক হয়েছে। কমিশন সভায় অনুমোদনের পর তা পুস্তিকা আকারে প্রকাশ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন,“কর্মপরিকল্পনার ব্যাপারে আমি বলেছিলাম, আমরা এই সপ্তাহে এটা করব। হ্যাঁ, এটা কোঅর্ডিনেট করা হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনার তো আন্তঃঅনুভাগ সম্পর্কিত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে ড্রাফটটা করা হয়েছে। ড্রাফটটা এখন কমিশনে দিয়ে আমরা অ্যাপ্রুভ করব। আমার বিশ্বাস যে এটা আমরা এই সপ্তাহের ভিতরে আপনাদেরকে দিতে পারব।”
নির্বাচন আয়োজনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করে থাকে ইসি। নির্ধারিত থাকে ভোটের আগে-পরে যাবতীয় প্রস্তুতির বিষয়ে সময়সীমা এবং কর্মপদ্ধতি। সুনির্দিষ্ট করা থাকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আসন সীমানা পুননির্ধারণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, নির্বাচনী আইনের সংস্কার, নির্বাচন সামগ্রী ও সরঞ্জাম কেনাকাটা, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রণ কার্যক্রম এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা সংক্রান্ত সব পরিকল্পনা।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতির সময় রোডম্যাপ ঘোষণার প্রথা গড়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতাতেই পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ইসি ভোট আয়োজনের রূপরেখা প্রকাশ করে আসছে।
সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন ইসি একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল।
নভেম্বরে সব প্রস্তুতি শেষ করার পরিকল্পনা
নভেম্বরে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করতে চাইছে ইসি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের জন্য এক মাস সময় বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ইসির। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি প্রকাশিত ভোটার হালনাগাদের খসড়া তালিকা আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হবে। এর পরবর্তী ধাপে, যেসব নাগরিকের বয়স আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ বছরে পৌঁছবে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে।
নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা এরইমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এখন বাকি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং। চূড়ান্ত হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনী। সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কয়েকটি বিশেষ কমিটি গঠনসহ ভোট পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল সার্ভিল্যান্সের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কমিশন।সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে ৩০০ আসনের খসড়া প্রকাশ হয়েছে। ১০ আগস্টের মধ্যে ৮২টি আসনে মোট এক হাজার ৫৯৬টি দাবি ও আপত্তি আবেদন অক্টোবরের মধ্যেই নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য ঠিক করেছে কমিশন।
ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ইসিতে চিঠি দিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। ভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণার কথা জানিয়েছে কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়, কর্মপরিকল্পনায় তফসিল ঘোষণা ও ভোটের তারিখ সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে শুক্র-শনিবার ছাড়া ফেব্রুয়ারির ৫ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে যে কোন একটি দিন ভোট হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার দেশকাল নিউজকে বলেন, “সরকারের সঙ্গে আলাপ করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। সেই তারিখের আনুমানিক ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা হবে।”
নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘‘রোডম্যাপের একটি খসড়া হয়েছে। কোনো দিন-তারিখ ঠিক হয়নি। আমরা সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সময় মাথায় রেখে কাজ করছি।