আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী
ডারউইন, অক্টোবর ২০: আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মহানবমী ঘিরে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তের ভিড়…
ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক: এক দশক ধরে রিপাবলিকান পার্টির ওপর তাঁর প্রভাব কমে আসা, কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই রাজনৈতিক ঝামেলা থেকে নজর ঘোরাতে ট্রাম্প তাঁর পুরোনো কৌশল প্রয়োগ করেছেন—নতুন একটি সংঘাত তৈরি করা। এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তিনি হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন।
ট্রাম্প বরাবরই রাজনৈতিক সংকটকালে কোনো লড়াইয়ে জড়ান বা প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করেন। সম্প্রতি তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক আচরণ’ করার অভিযোগ এনে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলেছেন। এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই ডেমোক্র্যাট শিবিরে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। আইনপ্রণেতা ক্রিসি হলাহ্যান ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের এই কৌশল দলের রক্ষণশীল সমর্থকদের একত্র করতে এবং সংকট থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে সহায়তা করে। অতীতে বারাক ওবামার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী প্রচার, জন ম্যাককেইনকে উপহাস বা ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ের মিথ্যা দাবি করে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলেন। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও সমর্থন হ্রাসের মুখে এই কৌশল এবার কতটা কাজে আসবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
হোয়াইট হাউসে মামদানিকে আমন্ত্রণ জানানোর (যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন মামদানিই বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছিলেন) পেছনে ট্রাম্পের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
ট্রাম্প এই তরুণ নেতাকে ‘কমিউনিস্ট মেয়র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন (যদিও মামদানি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী বলেন)। এর মাধ্যমে আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানির মতো তরুণ, জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাটকে ‘চরমপন্থী’ রূপে তুলে ধরেছেন।
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিকে, আর ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি তরুণদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এই দুই প্রাসঙ্গিক নেতার বৈঠককে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে আজকের এই বৈঠক মামদানির জন্য একটি বড় পরীক্ষা। অতীতে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ অন্যান্য অতিথিদের সবার সামনে চরম অপমান করেছেন। মামদানির সামনে সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হলো এটি প্রমাণ করা যে তিনি ট্রাম্পের সামনে শক্তভাবে দাঁড়াতে সক্ষম এবং নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।