সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ।
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই— গুলশানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজির ৪০ লাখ টাকা নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা করেছে।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ।
তিনি বলেন, “সারা দেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বেড়ে গিয়েছে। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এগুলো রুখে দেব। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাবে আমাদের অনেক ইউনিটের নেতাকর্মীরা দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে।”
রিফাত রশিদ বলেন, “যারা এ কমিটিগুলো গঠন করেছিলেন, তারা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনেক নেতা-কর্মী পথভ্রষ্ট হয়েছে। বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে যে কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। আমরা ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই আন্দোলন চালিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতে সংগঠনের কাঠামো পুনর্গঠন করে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”
কমিটি স্থগিতের এই ঘোষণা আসে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলার পরপরই।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৭ জুলাই সকালে আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু নিজেদের সংগঠনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে বাদী ভয়ে নগদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। শনিবার রাত আটটার দিকে চাঁদার বাকি টাকা আনতে গেলে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে।
মামলার আসামিরা হলেন: আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় সদস্য), ইব্রাহিম হোসেন মুন্না (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক),সাকাদাউন সিয়াম (সদস্য), সাদমান সাদাব (সদস্য), কাজী গৌরব অপু (পলাতক), আমিনুল ইসলাম নামে একজন কিশোর, যে ‘সংঘাতে জড়িত শিশু’ হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত
রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শিশুবিচার আইনের আওতায় আমিনুল ইসলামকে আটক রাখার জন্য আলাদা আবেদন করা হয়।
চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার পর সংগঠন থেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।