আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর
ডারউইন, আগস্ট ১৫ : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান…
এইচএসসি ফলাফলে ‘ধস’: ২১ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার, ফেল প্রায় ৪৩% শিক্ষার্থীঢাকা: গত দুই দশকের মধ্যে এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭.১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কম। অর্থাৎ, এবার প্রায় ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর, ২০২৫) এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশিত হয়। শিক্ষার তথ্য নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের পর (যখন পাসের হার ছিল ৫৯.১৬%) শিক্ষার্থীদের ফলাফলে এমন বড় ধরনের ‘ধস’ আর দেখা যায়নি।
জিপিএ-৫ কমেছে বিপুল পরিমাণেপাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এবার বিপুল পরিমাণে কমেছে। শিক্ষাবর্ষ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা২০২৩১,৩১,৩৭৬ জন২০২৪৭৮,৫২১ জন২০২৫ (এ বছর)৬৩,২১৯ জনএ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৬ জন।
ফলাফল নিম্নমুখী হওয়ার কারণফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামগ্রিক ফল খারাপ হওয়ার পেছনে মূলত ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক বেশি ফেল করার ঘটনা বড় প্রভাব ফেলেছে।দুই দশকের ফলাফলের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১২, ২০১৪, ২০১৯ সালের মতো কয়েকটি বছর বাদে বেশিরভাগ বছরই পাসের হার ৭০-৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
২০২১ ও ২০২২ সালের ভিন্ন পরিস্থিতি বাদে এবারই পাসের হার এক ধাক্কায় এত নিচে নেমে এল।অন্যান্য সূচকেও নিম্নগতিএ বছর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকও নিম্নমুখী:শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান: গত বছর ছিল ১,৩৮৮টি, এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪৫টি।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান: গত বছর ছিল মাত্র ৬৫টি, এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ২০২টি।‘অবশ্যই গলদ আছে’: বোর্ড চেয়ারম্যানআন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফলকে কাঙ্ক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, “এই যে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাস করল না, এটা তো কাঙ্ক্ষিত নয়।
এই বিষয়টিতে আমরা একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি। তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, গলদ আছে, অবশ্যই গলদ আছে। সেই গলদের জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। সেই দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, সেই দায়িত্ব বোর্ডের, সেই দায়িত্ব সকলের।”তিনি আরও জানান, এবার নিয়ম মোতাবেক সঠিক মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সময়ও বাড়ানো হয়েছিল।