আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর
ডারউইন, আগস্ট ১৫ : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান…
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর দুর্গম চরে জমি ও আধিপত্য দখলকে কেন্দ্র করে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। নিহত আমান মণ্ডলের বাবা মিনহাজ মণ্ডল বুধবার (আজ) বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এই মামলায় ‘কাকন বাহিনীর’ প্রধান কাকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ সন্ধ্যায় প্রথম আলো-কে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার কোনো আসামিকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গত সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার নিচ খানপাড়া এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সংঘর্ষে মোট তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন:
আমান মণ্ডল (৩৬): রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নিচ খানপাড়া এলাকার বাসিন্দা, যিনি মূলত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
নাজমুল মণ্ডল (২৬): একই এলাকার বাসিন্দা, যিনিও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাঘায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
এদিকে, এই ঘটনার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা পদ্মা ঘাট থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম লিটন (৩০)। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি কাকন বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লিটন নিহতের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
গোলাগুলির খবর পেয়ে দ্রুত বাঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, ঘটনাস্থলটি কোন থানার আওতাধীন তা নির্ধারণ করতে রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলির খোসা, কয়েকটি তাজা গুলি ও রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সংঘর্ষের স্থানটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার আওতাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধান অভিযুক্ত কাকন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাঝদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা এবং পদ্মা নদীর বালুমহাল ও চরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতেন। বালুমহাল দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ৪০ জনের বেশি সক্রিয় সদস্য নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘কাকন বাহিনী’।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলো-কে জানিয়েছেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে কুষ্টিয়া অংশের পদ্মার চরে পুলিশ ও র্যাবের শতাধিক সদস্য নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।