আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর
ডারউইন, আগস্ট ১৫ : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান…
কূটনৈতিক প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অভিন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলা তাঁর সরকারের মূল অগ্রাধিকার। শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকায় সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আজ দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দুই নেতার মধ্যে প্রথমে ৩০ মিনিটের একান্ত বৈঠক, এরপর প্রায় এক ঘণ্টা আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ভুটানকে ‘বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য ভুটান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভূগোল এবং প্রকৃতি আমাদের একত্রিত করেছে এবং “আমাদের লক্ষ্য একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।”
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বলেন, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে উষ্ণ ও চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে ভুটানের ‘আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের’ উৎস হিসেবে বর্ণনা করেন।
উভয় নেতা গভীর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য একটি “বিল্ডিং ব্লক” তৈরি হবে বলে প্রফেসর ইউনূস আশা প্রকাশ করেন।
উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এফটিএ সই করতে চান এবং ভুটান বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনকারী প্রথম দেশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ভুটানে পণ্য চলাচল সহজতর করার বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রফেসর ইউনূস। তিনি কর্মকর্তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুটানের কন্টেইনার ছাড় করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়—একটি স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যটি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের বাণিজ্য সম্পর্কে।
বাংলাদেশ উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নীলফামারিতে একটি এক হাজার শয্যার হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ করছে এবং ভুটানের নাগরিকদের সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের মেডিক্যাল কলেজ এবং বুয়েটে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চুক্তির আওতায় ভুটান বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করবে, যা ভুটানের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি জোরদার করবে।
উভয় নেতা ভুটান থেকে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা এবং এই বিদ্যুৎ বাণিজ্য সহজ করতে ভারতের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ‘উচ্চ লক্ষ্য পূরণ’ এবং ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিত করার জন্য প্রফেসর ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।