দিল্লির হোটেল ট্র্যাজেডি: হুইলচেয়ারে দগ্ধ লাশ ও শেষ আলিঙ্গন
ডারউইন, ০৫ জুন: এক নারী বসেছিলেন কমোডের ওপর। তার ঠিক পাশেই একটি চেয়ারে বসা এক ব্যক্তি। অবশ মাথাটি এলিয়ে দিয়েছিলেন পুরুষটির কাঁধে, আর পুরুষটিও তাকে…
ডারউইন, ১২ জুন : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে চোরাকারবারি ভেবে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি রাতে থানায় নিয়েও হয়রানি করা হয়। এ ঘটনায় খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এতে এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্রিকেটার নাঈম জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লীগের খেলা শেষ করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামার সংকেত দেন।
এসময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। নাঈম সহযোগিতা করলেও তারা কোনো কথা না শুনে তাকে ধাক্কা দেন এবং সিএনজি অটোরিকশা আটকে রাখেন। জাতীয় দলের খেলোয়ার পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে না নিয়ে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে দুর্ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে চোরাকারবারি ভেবে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি রাতে থানায় নিয়েও হয়রানি করা হয়। এ ঘটনায় খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এতে এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্রিকেটার নাঈম জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লীগের খেলা শেষ করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামার সংকেত দেন।
এসময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। নাঈম সহযোগিতা করলেও তারা কোনো কথা না শুনে তাকে ধাক্কা দেন এবং সিএনজি অটোরিকশা আটকে রাখেন। জাতীয় দলের খেলোয়ার পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে না নিয়ে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে দুর্ব্যবহার করেন।
একপর্যায়ে এসআই শফিকুল তাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে থাকা সোর্স সোহেলও মারতে শুরু করেন নাঈমকে।

ক্রিকেটার নাঈম বলেন, ‘‘আমাকে কী অপরাধে মারা হচ্ছে জানতে চাইলে এসআই শফিক বলেন, ‘তুই আসামি। তুই চুপ থাক, একটাও কথা বলবি না’। তারপর আমার গলা চেপে ধরে। তখন আমি চিল্লাচিল্লি করেছি ও আব্বুকে কল দিয়েছি। আমার মোবাইলও নিয়ে নেয় তখন। ওখানে থাকা ভাইয়ারা সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছে, তবুও উনি আমার গলা চেপে ধরে রাখে।’’
তিনি বলেন, ‘‘থানায় ওসির সামনেও নাজেহাল করা হয়েছে। ওসি আমাকে বলে, ‘চোখ নামিয়ে কথা বলো’। আমি বলেছি যে- আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমি টেস্ট খেলি। ওখানে প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ ছিলেন, সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবুও পুলিশ শোনেনি। তাও ওরা আমার গলা চেপে ধরে থানায় নিয়ে আসে। আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছে এসআই শফিক। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার আপনার নেই, তবুও মেরেছে।’’
‘‘এরপর ঘটনার বিষয়ে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোনে জানান নাঈম। তামিম তাৎক্ষণিক অর্থমন্ত্রীর ছেলে ও বিসিবির পরিচালক ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানালে তিনি ওসিকে ফোন দেন। এরপর ওসি শান্ত হন। আমাকে চলে যেতে বলেন।’’
নাঈম বলেন, ‘‘আমি বলেছি দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি থানা ছেড়ে যাব না। এরপর তারা আমার থেকে একটি মামলা নেয়। আমার ভাই বাদী হয়ে মামলাটি করেন।’’
পুলিশ জানায়, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এক এসআইয়ের তথ্যর ভিত্তিতে অভিযানে নামে এসআই শফিকুল। সিএনজি অটোরিকশাটিতে করে স্বর্ণের বার চোরাচালান করা হচ্ছে এমন তথ্যর ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেন এসআই শফিকুল। সেই অভিযানে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন ক্রিকেটার নাঈম।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে এসআই শফিকুল অভিযানটি পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান সংক্রান্ত একটি বিষয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।’’
তবে অভিযানে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। ইতোমধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামের সন্তান ক্রিকেটার নাঈম ২০১৮ সালে বোলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে টেস্টে অভিষেক হয়। আর অভিষেক টেস্টেই ৫ উইকেট নিয়ে সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন।
নাঈম এখনো পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলে ৪৮টি উইকেট শিকার করেছেন। তিনি মোট ৪ বার ৫ উইকেট শিকারীর খেতাব পুড়েছেন নিজের ঝুলিতে।