বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ডারউইন, ০১ জুন: বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার…
ডারউইন, ০৩ জুলাই : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ভারতের ইস্টার্ন রেলওয়ে। এখন দুই দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি ঘোষণার অপেক্ষা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এসব ট্রেন পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের রেল কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের পর মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। রেললাইনের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিট বিক্রির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
যদিও কলকাতা-ঢাকা (মৈত্রী এক্সপ্রেস) এবং কলকাতা-খুলনা (বন্ধন এক্সপ্রেস) কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা (মিতালী এক্সপ্রেস) রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত এলেই তাৎক্ষণিকভাবে পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে।
ইস্টার্ন রেলওয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ট্রেনের রেক ও কোচগুলো ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন চালানো যাবে। বর্তমানে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের রেকগুলো কলকাতায় রয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা চালুর আলোচনা গতি পায়। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশে ভিসা আবেদনকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
বিশেষ করে বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাতায়াতকারী বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজন, পাশাপাশি সাধারণ পর্যটকেরা সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক এই রেল পরিষেবা পুনরায় চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়নি।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশে থাকা মিতালী এক্সপ্রেসের রেক ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। বাংলাদেশি একটি ইঞ্জিন চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে রেকগুলো ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশনে পৌঁছে দেয়।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিতালী এক্সপ্রেসের রেকগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এগুলোকে সব সময় চলাচলের উপযোগী রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও নতুন গতি আসবে।