বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ডারউইন, ০১ জুন: বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার…
ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন করা প্রায় ৭৯ হাজার নাগরিক এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ইস্যু করা কোনো সনদই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না এবং সেগুলো এখন অকার্যকর। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভে এই সনদগুলোকে বলছেন ‘মেয়র তাপসের সার্ভারের নিবন্ধন’।
অনলাইনে নিবন্ধন না পাওয়ায় টাইফয়েড টিকা বা স্কুল ভর্তির মতো জরুরি কাজের জন্য নাগরিকদের নতুন করে জন্মনিবন্ধনের আবেদন করতে হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগপর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কেন্দ্রীয় সিস্টেমের পরিবর্তে নিজস্ব সিস্টেমে (যা ‘মেয়র তাপসের সার্ভার’ নামে পরিচিত) করত।মেয়র তাপসের নির্দেশ: নিবন্ধনের ফির অর্থ নিজস্ব তহবিলে জমা করার দাবিতে তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে এই আইনবহির্ভূত পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তৎকালীন রেজিস্ট্রার জেনারেলরা কয়েক দফা চিঠি দিলেও তা আমলে নেয়নি ডিএসসিসি।
সিস্টেম বাতিল: গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৪ আগস্ট দক্ষিণ সিটির ওই পৃথক সিস্টেম বাতিল করে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য যুক্ত করার নির্দেশ দেয়।
কারিগরি ত্রুটি: আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, তথ্য কেন্দ্রীয় সিস্টেমে একীভূত করার চেষ্টা করা হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে সব তথ্য একীভূত করা যায়নি। ফলে ৭৯ হাজার নিবন্ধন অকার্যকর হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা একবার নিবন্ধনের পরও আবার নতুন করে নিবন্ধনের ঝক্কিঝামেলা পোহাতে গিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। খিলগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রুহুল বারী ইউনুছ বলেন, ১০ বছর বয়সী মেয়ের নিবন্ধনের জন্য তাঁকে নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই মন্তব্য করছেন, “তাপস কি মাগনা জন্মনিবন্ধন করে দিয়েছেন?” প্রতিটি নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীরা ৫০ টাকা ফি দিয়েছিলেন। সেই হিসাবে ৭৯ হাজার আবেদনের জন্য নাগরিকদের ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা গচ্চা গেছে।
নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে আবার ফি নেওয়ার বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ফির বিষয়টি সিস্টেমে যুক্ত, ফলে ফি না দিলে আবেদন করা যাচ্ছে না। অকার্যকর নিবন্ধন নিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন) মো. যাহিদ হোসেন গত ৫ অক্টোবর জানান, দক্ষিণ সিটির ৪০ হাজার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সমস্যা দূর হয়েছে এবং সেগুলো অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। বাকিগুলোর সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তবে ভুক্তভোগীদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।