ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করব: রয়টার্সকে শেখ হাসিনা
ডারউইন, ১১ জুলাই: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে পলাতক বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে…
ঢাকা: ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ, বিশেষত ঢাকা শহর, যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের শিকার হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্ক করলেও, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের সক্ষমতা এখনো উদ্বেগজনকভাবে কম।
ভূমিকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থান দেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং এর ফলে দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ছোট ও মাঝারি ভূকম্পন প্রায়ই অনুভূত হওয়ায় জনগণের আতঙ্ক বাড়ছে এবং স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারির গবেষণায় ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানলে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক সংখ্যক ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা দেশের প্রস্তুতিতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন পরিষ্কারভাবে বলেন,
“ভূমিকম্পের বড় দুর্যোগ মোকাবিলার ২০ ভাগ সক্ষমতাও নেই বাংলাদেশের।” বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে এই প্রস্তুতির তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
যদিও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এই দুর্যোগ মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তাঁরা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মাথায় রেখে নতুন কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের প্রস্তুত করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ভয়াবহ ঝুঁকি কাটাতে হলে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিকল্পিত ও ভূমিকম্প সহনীয় নগরায়ন নিশ্চিত করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও মহড়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।