পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে জোরালো পদক্ষেপ চাইল বাংলাদেশ
ডারউইন, ২৯ এপ্রিল: পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বৈশ্বিক অঙ্গীকার নবায়ন এবং সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ…
ডারউইন, ০২ মে: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
শুক্রবার ফ্লোরিডার পুলিশ বিভাগ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) গোলাম মোর্তজা।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, “একজন কায়াকার (নৌকা চালক) মাছ ধরার সময় তার সুতায় টান লাগলে একটি ময়লার ব্যাগ দেখতে পান। সেই ব্যাগের ভেতর গত রবিবার নাহিদা বৃষ্টির দেহাবশেষ পাওয়া যায়। মরদেহটি পচে যাওয়ায় ডিএনএ এবং ডেন্টাল রেকর্ড ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এর দুই দিন আগে উপসাগরের ওপর একটি ব্রিজের পাশ থেকে অন্য একটি ময়লার ব্যাগে তার বন্ধু ও ইউএসএফ-এর ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।”
জামিল ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ইউএসএফ-এর সাবেক শিক্ষার্থী এবং লিমনের রুমমেট ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিশাম আবুঘারবিয়াহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।
তদন্তের বিষয়ে শেরিফ আরও বলেন, “খুনের বিস্তারিত তথ্য যখন অভিযুক্তের সামনে তুলে ধরা হয় তখন তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। সে ছিল নির্বিকার। আমরা যখন আমাদের হাতে থাকা তথ্যগুলো তাকে দেখাচ্ছিলাম, সে ছিল খুবই নিষ্ঠুর এবং কোনো ধরনের আবেগ দেখায়নি।”
হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ক্রোনিস্টার বলেন, “গোয়েন্দারা এখনও এই খুনের কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাননি। আমি আশা করি আমরা তা খুঁজে বের করতে পারব।”
অভিযুক্তের ফোন তল্লাশির বিষয়ে তিনি জানান, “আবুঘারবিয়াহ তার ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলেছিল। কিন্তু ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও লিমন নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে সে ফোনে বেশ কিছু উদ্বেগজনক বিষয়ে সার্চ করেছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল ‘একটি ছুরি কি মাথার খুলি ভেদ করতে পারে?’ এবং ‘প্রতিবেশীরা কি গুলির শব্দ শুনতে পায়?’ এ জাতীয় কথা।”
শেরিফ আরও যোগ করেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি লাইসল ওয়াইপস (পরিষ্কারক) এবং ভারী কাজের জন্য ব্যবহৃত কন্ট্রাক্টর-গ্রেড ময়লার ব্যাগসহ অন্যান্য সরঞ্জামও কিনেছিল। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এসব তথ্যই প্রমাণ করে যে সে আগে থেকেই এটি করার পরিকল্পনা করেছিল।”
গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেনইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। আট দিন পর ২৪ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে। এরপর থেকেই বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, জামিল লিমনকে শেষবার তার অফ-ক্যাম্পাস অ্যাপার্টমেন্টে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের লোকেশন ডেটা এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার রেকর্ডের সূত্র ধরে গত ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর দুই দিন পর ২৬ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জামিল লিমনের মরদেহ আগামী ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। দুবাই হয়ে ৪ মে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বৃষ্টির মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছে দূতাবাস। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে মরদেহ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এদিকে,দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ফ্লোরিডায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।