মেসির শেষ ম্যাচে ১০ মিনিটে বিশেষ শ্রদ্ধা, কাঁদল মনুমেন্টাল
ডারউইন, অক্টোবর ০৭: আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। কিংবদন্তির বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যাচের ১০ মিনিটে থামিয়ে দেওয়া হলো খেলা। পুরো…
ক্রীড়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটিও হয়ে থাকল তাঁর নিজের মতোই—গোল, অ্যাসিস্ট আর আবেগে মোড়ানো। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে বেনিনের বিপক্ষে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বিদায়ের আবহ। ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে মেলে ধরা হয় বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি। এরপর ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে মেসিকে এক মিনিট ধরে সম্মান জানায় পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাননি মেসি। সপ্তম মিনিটে তাঁর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলিতে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
তবে বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে আসে গোলটি।
এরপর ৬০তম মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোল করেন নিকো পাজ। বাঁ দিক থেকে মেসির নিখুঁত পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করেন পাজ। এরপর দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন বেনিনের জালে। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়ান মেসি।
এর ১১ মিনিট পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের এক ডিফেন্ডারের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১২৬তম গোল।
শেষ দিকে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মধ্যে পেয়েও শট বাইরে মারেন তিনি। গোলটি হলে বিদায়ী ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স আরও বর্ণিল হয়ে উঠত।
ম্যাচের আগে নিজের বিদায় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন মেসি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর কেটে গেছে ২১ বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ পথচলায় ছিল হতাশা, ব্যর্থতা, শিরোপার অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের মতো অসাধারণ সাফল্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তাঁর বিদায় নিয়ে তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা।
অবশেষে সেই বিদায়ও হলো তাঁর চেনা ছন্দে—গোল ও অ্যাসিস্টে। নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়ার সময় তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় হয়নি; শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে এক কিংবদন্তির মহাকাব্যিক অধ্যায়।