দাম না পেয়ে আলু ফেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষক, ক্ষতি ছাড়িয়েছে হাজার কোটি টাকা
ডারউইন, ০৮ মে: রংপুর অঞ্চলে এবার আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে দাম ধসে পড়া, হিমাগারে সংরক্ষণ সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ায় আলু…
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী নদী দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে মুমূর্ষু। গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানার বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এই নদীর পানি ও পলিতে গবেষকরা এখন ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ কণা খুঁজে পেয়েছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত হুমকি বাড়াচ্ছে। শুধু নদী নয়, চার দশকে ২০০টিরও বেশি পাহাড়ের মধ্যে ১২০টি বিলুপ্ত হয়েছে। এমন ‘অত্যাচারে’ একসময়ের নান্দনিক চট্টগ্রামের পরিবেশ আজ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত।
পাহাড়-নদীঘেরা চট্টগ্রাম মারাত্মক বায়ুদূষণের শিকার। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের সমীক্ষা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বায়ুমান (১৬৫.৩১ মাইক্রোগ্রাম) আদর্শ মানের (৬৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে অনেক বেশি দূষিত।
পরিবেশবিধ্বংসী কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ড দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ আদালতে বর্তমানে ১ হাজার ৩২৩টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মামলা মাত্র ৭২টি (মোট মামলার সাড়ে ৫ শতাংশ)।
পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর সরাসরি মামলা দেওয়ার চেয়ে অর্থদণ্ডের দিকে বেশি আগ্রহী। সরকারি কৌঁসুলি হুমায়ুন রশিদ তালুকদার স্বীকার করেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আইনজীবীরা জানান, অর্থদণ্ড হওয়ায় আসামিরা আপিল করে খালাস পান অথবা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান।
পরিবেশ আদালতে কঠোর সাজার নজির খুবই কম। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে হওয়া মামলার বিচারকাজ চলে এমন আদালতে তিন বছরে মাত্র একটি মামলার রায়ে কারাদণ্ড হয়েছে। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল কক্সবাজারের খুরুশকুল এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগে ১১ আসামিকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে এটি ছিল ২০১৮ সালের মামলা, যার সব আসামি পলাতক।

সাক্ষী হাজির না হওয়ায় অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। যেমন: ২০০৭ সালের একটি পাহাড় কাটার মামলায় চার সাক্ষীর কেউ আদালতে হাজির হননি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পরিবেশ আদালত চট্টগ্রামে ১৪টি, ২০২৪ সালে ১০০টি এবং ২০২৩ সালে ৩০টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যার বেশিরভাগেই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতেও প্রথম আট মাসে ১০টি মামলায় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ আদালতে মামলার সংখ্যা কম শুনে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে যে পরিমাণ পাহাড় কাটা হয়, নদী দখল, গাছ কাটা, শিল্পদূষণ হয়; তাতে কোনো অবস্থাতেই মামলার সংখ্যা এত কম হতে পারে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীরা পরিবেশ আদালতে সরাসরি মামলা করতে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক বাধার সম্মুখীন হন। তিনি পরিবেশ আদালতকে শক্তিশালী করার এবং এই বাধা দূর করার দাবি জানান।