দ্রুততম ১৪ হাজার রানের পাশাপাশি কোহলির আরও রেকর্ড
ডারউইন, ১৫ মে: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন আগেই। তবে সীমিত ওভারের এই সংস্করণে এখনো কতটা ভয়ঙ্কর, সেটি এবারের আইপিএলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বিরাট কোহলি। বুধবার রায়পুরে কলকাতা…
ডারউইন, ২৭ সেপ্টেম্বর-
অপরাজেয় ভারত। গ্রুপপর্ব থেকে সুপার ফোর—সবখানেই জয়। কিন্তু ক্রিকেট মানেই অঘটনের খেলা। দুবাইয়ে সেই চমক দেখানোর সুযোগ পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা, তবে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে শেষ হাসি হাসল ভারতই।
মূল ম্যাচে শেষ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ৩ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে লঙ্কানরা মাত্র ২ রান তুলল—ম্যাচ গড়ল সুপার ওভারে। সেখানে ব্যাটাররা খেই হারালেন, করতে পারলেন মাত্র ২ রান। ৩ রানের টার্গেট সহজেই টপকে যায় ভারত।
শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। শুরুটা ছিল রীতিমতো ধাক্কার। মাত্র ৪ রানে ফেরেন ওপেনার শুভমান গিল। কিন্তু সেই ধাক্কা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ব্যাট হাতে নামতেই ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা।
টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক এই ব্যাটার যেন আবারও প্রমাণ করলেন—টি–টোয়েন্টি কেবল শক্তি নয়, বরং ছন্দেরও খেলা। ৩১ বলে ৮ চার আর ২ ছক্কায় তাঁর ব্যাট থেকে আসে ঝলমলে ৬১ রান।
দ্বিতীয় উইকেটে সূর্যকুমারের সঙ্গে গড়েন দ্রুত ৫৯ রানের জুটি। তবে ভারত অধিনায়ক ফিরলেন মাত্র ১২ রানে। এর পরেই ক্রিজে আসেন সাঞ্জু স্যামসন। খেলেন ২৩ বলে ৩৯ রানের ক্যামিও। লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন তিনি। অন্য প্রান্তে ছিলেন তরুণ তিলক ভার্মা।
শুরুতে সতর্ক থাকলেও ইনিংস যত গড়িয়েছে, ততই শাসন করেছেন লঙ্কান বোলারদের। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৯ রানে। তার সঙ্গে ছিলেন অক্ষর প্যাটেল, যিনি অপরাজিত থাকেন ২১ রানে। ৫ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের ইনিংস শেষ হয় ২০২ রানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে কার্যকর কোনো পরিকল্পনাই কার্যত দেখা যায়নি।
তবে উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন পাঁচজন বোলার—থিকশানা, চামিরা, হাসারাঙ্গা, শানাকা ও আসালাঙ্কা।
পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল ভেঙে পড়ার মতো।
দলীয় ৭ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন কুশল মেন্ডিস। ভারতীয় বোলাররা ভেবেছিল এখান থেকেই ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু সেটিকে ভুল প্রমাণ করেন দুই ব্যাটার কুশল পেরেরা ও পাথুম নিশানকা।
অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়েন তারা।
ঝড় আর ধৈর্যের মেলবন্ধনে তারা ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। পেরেরা ব্যাট চালান আগ্রাসী ভঙ্গিতে। মাত্র ৩২ বলে ৫৮ রান করে ফিরলেও তার ইনিংসই আসলে লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেয়।
অন্যদিকে, নিশানকা খেলেন এবারের এশিয়া কাপের সেরা ইনিংস। এক প্রান্ত ধরে রেখে ৫২ বলে তুলে নেন এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। ধীরস্থির, অথচ কার্যকর ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলারদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এই ওপেনার।
এই জুটিতে যোগ হয় ১২৭ রান। ১০ ওভারেই স্কোরবোর্ডে চলে আসে ১১৪ রান। তখনই বোঝা যাচ্ছিল ভারতের ম্যাচ হাত ফসকে যাচ্ছে। কিন্তু বোলারদের কল্যাণে শেষ দিকে ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে যায় ভারত। শেষ ওভারে যখন শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২ রান, তখন নিশানকা ফেরেন সাজঘরে। এর আগে খেলেন ৫৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস।
ভারতের জন্য এই জয়টি তেমন গুরত্ব বহন করে না। কারণ ফাইনালের টিকিট আগেই নিশ্চিত। ২৮ সেপ্টেম্বর মেগা ফাইনালে মাঠে নামবে তারা, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।