হঠাৎ সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন রাহুল—কী হয়েছিল সেদিন বিকেলে?
ডারউইন, ৩০ মার্চ: রোববারের সেই বিকেলটা ছিল একেবারেই সাধারণ। দিঘা সংলগ্ন তালসারি সৈকতে চলছিল ধারাবাহিকের শুটিং। ইউনিটের সদস্যদের কোলাহল, ক্যামেরার আলো, সংলাপের রিহার্সাল—সব মিলিয়ে ছিল…
শৈশবে তিনি পদার্থবিদ হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আজ তিনি ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত তরুণ মুখ। ইয়াশ রোহানের যাত্রা অনুপ্রেরণার গল্প—যেখানে রয়েছে সাহস, পরিশ্রম আর প্রতিভার সমন্বয়।

Photo: Yash Rohan Facebook
১৯৯৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার আরামবাগে জন্ম নেন ইয়াশ রোহান। তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। বাবা নরেশ ভুইয়া একজন অভিনেতা, ফটোসাংবাদিক, নাট্যনির্দেশক ও লেখক। মা শিল্পী সরকার অপু দেশের নাট্যাঙ্গনের সুপরিচিত অভিনেত্রী ও নাট্যকার।
তবে পরিবারের পেশা দেখেও ছোটবেলায় ইয়াশ অভিনয়ের কথা ভাবেননি। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন এবং একসময় বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নও দেখতেন। পরবর্তীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এমনকি তিনি শিক্ষকতাও করেছেন কিছুদিন।
২০১৫ সালে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র Doob পরিচালনা ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় পদার্পণ করেন। ২০১৬ সালে The Red Note নির্মাণ করেন। কিন্তু দর্শকের কাছে পরিচিতি পান ২০১৮ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত স্বপ্নজাল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেখানে পরীমনির বিপরীতে তাঁর চরিত্র “অপু” তাঁকে আলোচনায় আনে।
Networker Baire (২০২১): তরুণদের গল্পভিত্তিক এই সিনেমায় ‘রাতুল’ চরিত্রে অভিনয় করেন।
Poran (২০২২): এই রোমান্টিক থ্রিলার বাংলা সিনেমার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হিট। ইয়াশের অভিনয় নতুন মাত্রা যোগ করে।
Forget Me Not (২০২৪, চরকি): জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীর সঙ্গে করা এই মনস্তাত্ত্বিক রোমান্টিক নাটক একদিনেই ইউটিউবে লক্ষাধিক ভিউ পায়।
Panch Phoron (ওয়েব সিরিজ): এর একটি পর্বে অভিনয় করেন, যেখানে অঙ্গদানের গল্প দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এছাড়া তিনি Adom সিনেমায় ভিন্ন ধরনের গম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
পারিবারিক পটভূমির কারণে ইয়াশকে অনেকেই “নেপোটিজম” এর সুযোগভোগী বলেছেন। কিন্তু তিনি সরলভাবে উত্তর দিয়েছেন:
“হ্যাঁ, বাবা-মা হয়তো একটা সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন, কিন্তু টিকে থাকার জন্য নিজের যোগ্যতাই আসল। আমি আমার যোগ্যতায়ই কাজ করছি।”
ইয়াশকে বেশিরভাগ দর্শক রোমান্টিক চরিত্রে চেনেন, তবে তিনি নিজেকে শুধু নায়ক হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। হরর ঘরানার Hatbodol এ অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার সক্ষমতা রাখেন।
এখনও তিনি তরুণ, তবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত একজন মুখ। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ কিংবা নাটক—যে প্ল্যাটফর্মই হোক, তিনি মনে করেন অভিনেতার কাজ একটাই: চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে জীবন্ত করে তোলা।
তাঁর নিজের ভাষায়:
“আমি সিনেমা করি, নাটক করি কিংবা ওটিটি—কাজ একই, সেটা হলো অভিনয়। প্ল্যাটফর্ম বদলালেও দায়িত্ব বদলায় না।”
ইয়াশ রোহানের পথচলা শুরু হয়েছিল এক ধরনের দ্বিধা থেকে—অভিনেতা হবেন কি হবেন না। কিন্তু আজ তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের ভালোবাসার প্রতীক। তিনি শুধু বাবা-মায়ের নামেই নন, বরং নিজের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন।