ঈদে আসছে রাফির একঝাঁক নায়িকার ‘প্রেশার কুকার’
ডারউইন, ২৪ ফেব্রুয়ারি: ঢালিউডের সিনেমা নির্মাতা রায়হান রাফি ঈদুল ফিতরে আসছেন ‘প্রেশার কুকার’সিনেমাটি নিয়ে। এই ছবির প্রথম চমক এতে চার চারজন নায়িকাকে দেখা যাবে। আরেকটি…
ডারউইন, ৩০ মার্চ: রোববারের সেই বিকেলটা ছিল একেবারেই সাধারণ। দিঘা সংলগ্ন তালসারি সৈকতে চলছিল ধারাবাহিকের শুটিং। ইউনিটের সদস্যদের কোলাহল, ক্যামেরার আলো, সংলাপের রিহার্সাল—সব মিলিয়ে ছিল এক ব্যস্ত অথচ প্রাণবন্ত পরিবেশ। সেই পরিবেশের কেন্দ্রেই ছিলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়—হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, কাজ নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস।
কেউ ভাবতেই পারেনি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু এমনভাবে বদলে যাবে।
জানা যায়, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং শেষের দিকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সহকর্মীরা যখন মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত, তখন রাহুল নাকি বলেছিলেন—আরও কয়েকটা শট দিয়ে আসবেন। হয়তো সেটাই ছিল তাঁর শেষ কাজের তাগিদ, শেষবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে।
তারপরই তিনি এগিয়ে যান সমুদ্রের দিকে।
সমুদ্র তখন শান্তই ছিল, কিন্তু তার গভীরতা যে কতটা নির্মম হতে পারে—তা কেউ টের পায়নি। আচমকাই চোখের সামনে রাহুলকে আর দেখা যায় না। মুহূর্তের মধ্যে তিনি তলিয়ে যান জলে।
প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেনি কী হচ্ছে। কেউ ভেবেছিল হয়তো শুটিংয়েরই অংশ। কিন্তু পরের মুহূর্তেই শোনা যায় আতঙ্কের চিৎকার—
“রাহুলদা ডুবে যাচ্ছেন!”
সবকিছু যেন তখন একসঙ্গে ঘটে যায়। টেকনিশিয়ানরা ছুটে যান, সহকর্মীরা ছুটে যান, শুরু হয় প্রাণপণ চেষ্টা। কয়েক মুহূর্ত যেন ঘণ্টার মতো দীর্ঘ হয়ে ওঠে। অবশেষে তাঁকে উদ্ধার করা হয়—তখনও নাকি তিনি পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়ে যাননি, ছিল জীবনের ক্ষীণ একটা লড়াই।
দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিঘা হাসপাতালে। গাড়ির ভেতরে তখন নিঃশব্দ আতঙ্ক, কারও মুখে কথা নেই—শুধু একটাই আশা, “বাঁচবে তো?”
কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না।
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় তাঁর জীবনযুদ্ধ। চিকিৎসকেরা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যেন স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ইউনিট, থমকে যায় এক জীবনের সব গল্প।
সহ-অভিনেতাদের কণ্ঠে এখনো অবিশ্বাস—
“এই তো কিছুক্ষণ আগেও একসঙ্গে ছিলাম… হাসছিলাম…”
এই বাস্তবতাকে কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
কারও মতে, হয়তো তিনি সাঁতার জানতেন না। আবার কেউ বলছেন, সমুদ্রের বালিতে পা আটকে গিয়েছিল। কিন্তু সত্যিটা কী—তা জানার অপেক্ষা এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর। তবে যে কারণই হোক, এই মৃত্যু যে একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং নির্মম—তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া রাহুল ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের এক পরিচিত, প্রিয় মুখ। ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।

২০১০ সালে বিয়ের দিন স্ত্রীর সঙ্গে রাহুল।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এরপর ‘জ্যাকপট’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘কাগজের বউ’, ‘আকাশ অংশত মেঘলা’সহ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ঘরের ছেলে।
কিন্তু পর্দার সেই পরিচিত মুখ আজ আর নেই।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা উত্থান–পতন, তবু কাজের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনো কমেনি। সম্প্রতি শুরু করেছিলেন ‘সহজকথা’ নামের একটি পডকাস্ট—যেখানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরছিলেন দর্শকদের সামনে।
আজ সবকিছুই যেন হঠাৎ থেমে গেল।
তালসারির সেই সৈকতে ঢেউ আজও আগের মতোই উঠছে-নামছে, কিন্তু সেই ঢেউয়ের মাঝেই হারিয়ে গেছে এক প্রাণবন্ত মানুষ, এক অভিনেতা, এক সহকর্মী, এক বাবা।
শুধু থেকে গেছে প্রশ্ন—
একটু যদি সাবধান হওয়া যেত, একটু যদি আগে বোঝা যেত…
তাহলে কি এই গল্পটা অন্যরকম হতে পারত?
আজ বাংলা বিনোদন জগত শোকস্তব্ধ।
আর ভক্তদের হৃদয়ে শুধু একটাই বেদনা—
রাহুল নেই… কিন্তু তাঁর স্মৃতি রয়ে যাবে চিরকাল।