ভূমিকম্পের কম্পন থামলেও কেন মাথা ঘোরায়?
ভূমিকম্পের পর মাথা ঘোরা একটি সাধারণ ভেস্টিবুলার প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সক্রিয় ভেস্টিবুলার সিস্টেম ও করটিসল হরমোন এর জন্য দায়ী। কখন সতর্ক হতে হবে এবং করণীয় কী, তা জানুন।
ঢাকা: চলতি অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হলো। মাসের আর মাত্র দুদিন বাকি থাকতেই এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছর এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চলতি অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হলো, যা এ বছর এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে:
চলতি অক্টোবর মাসে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। (সেপ্টেম্বরে ভর্তি হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৮৬৬ জন)। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৯৬৪ জন নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৪ জন।দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯০। ঢাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৬৮ হাজার ৪২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৬৫ হাজার ৩১২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
এ ভয়াবহ মৃত্যু ও সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলো-কে বলেন, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ হলো না। সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু হলে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েই দায় সারা হলো। কিন্তু এ পরীক্ষা মানুষ কোথায় করবে, কোথায় গিয়ে স্বল্প খরচে করতে পারবে, তার বন্দোবস্তও হলো না। এটা নিঃসন্দেহে একটা ব্যর্থতা।”
আরেক জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমদ মশার বংশবৃদ্ধি রোধে সরকারি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতাই দেখলাম না। বিদ্যমান যে ব্যবস্থা ছিল, তা–ও নষ্ট হয়েছে।”
বে-নজীর আহমদ ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার বিস্তারে ঘন ঘন বৃষ্টির ভূমিকা আছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত এবং নভেম্বরের ৬ তারিখের দিকে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায়, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়ে যেতে পারে।