বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ
ডারউইন, ১২ জুন : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে চোরাকারবারি ভেবে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি রাতে থানায় নিয়েও হয়রানি…
ঢাকা ২০২৫: ফিটনেস, শারীরিক সক্ষমতা এবং দক্ষতার উন্নয়নে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে জিপিএস ট্র্যাকার, হার্ট রেট মনিটর, আন্ডারওয়াটার ভিডিও অ্যানালাইসিস ব্যবহার করছে, সেখানে বাংলাদেশে ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলাগুলোয় প্রযুক্তির আলো বলতে গেলে পড়েইনি। অধিকাংশ খেলাতেই এখনো মান্ধাতার আমলের ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও খাতা-কলমই ভরসা।
নারী ফুটবলে জিপিএসও নেই: বিশ্ব ফুটবল আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও বাংলাদেশের নারী ফুটবলে প্রশিক্ষণে এখনো হাতঘড়ি, বাঁশি আর খাতা-কলমই মূল ভরসা। পুরুষ ফুটবলে সামান্য জিপিএস ব্যবহার হলেও মেয়েদের ফুটবলে সেটিও অনুপস্থিত। নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার আক্ষেপ করে বলেন, “ফুটবল এখন পুরোপুরিই প্রযুক্তিনির্ভর একটি খেলা। কিন্তু আমাদের এখানে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। এমনকি কাজ আমাদের করতে হয় জিপিএস ছাড়াই।” বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান দুর্বলতা স্বীকার করে বলেন, জাতীয় দলে একটি জিপিএস ট্র্যাকার আছে, যেটি মাঝেমধ্যে নষ্ট থাকে।

নারী ফুটবলে চলছে খাতা–কলম ব্যবহার করে অনুশীলন
হকিতে অচেনা প্রযুক্তি: দেশের জনপ্রিয় খেলা হকিতেও এখনো জিপিএসের ব্যবহার শুরু হয়নি। রানিং, ম্যাচ খেলা আর স্টিক কারুকাজ—এই প্রথাগত অনুশীলনই বেশি হয়। জাতীয় দল এখনো প্রশিক্ষিত কোনো পারফরম্যান্স বিশ্লেষক বা সফটওয়্যার পায়নি। জাতীয় হকি দলের সাবেক এক কোচ জানান, অনেক কোচই ম্যানুয়ালি শিখে আসায় নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী নন।
সাঁতার চলছে হাতে ধরে সময় গুণে: মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সের ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড শুরু থেকেই অচল। অনুশীলন বা প্রতিযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই হ্যান্ডটাইমিংই একমাত্র ভরসা। সাঁতারুদের গতি ও শক্তি মাপার জন্য মোশন সেন্সর বা বায়োমেকানিকস সফটওয়্যার এখানে অচেনা। সাঁতারু সামিউল ইসলাম উন্নত প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়ে আক্ষেপ করেন, কিছু প্রযুক্তির সুবিধা পেলেও পারফরম্যান্সের উন্নতি সঠিকভাবে জানা যেত।
অ্যাথলেটিকসে ‘চোখে দেখে’ পরিমাপ: প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পরও অ্যাথলেটিকসে নেই কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার। ফেডারেশনের একটি ফটোফিনিশ মেশিন থাকলেও চালাবার মতো দক্ষ লোকবল নেই। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক কিতাব আলী এই দুর্বলতা স্বীকার করেছেন। এশিয়ান ইনডোরে ব্রোঞ্জপদক জেতা অ্যাথলেট মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের এখানে সবই হ্যান্ডটাইমিংয়ে চলে। যে কারণে একজন স্প্রিন্টার দেশে যে সময় দেন, বিদেশে গিয়ে পারফরম্যান্সে তফাতটা বেশি হয়।”

কাবাডিতেও পড়েনি আধুনিকতার ছোঁয়া
অন্যান্য খেলার একই দশা: কাবাডি, ভলিবল, হ্যান্ডবল, আর্চারি, জুডোসহ অন্যান্য খেলাতেও চলছে সেই ম্যানুয়াল পদ্ধতি। এতে তথ্য রেকর্ড ও বিশ্লেষণে ভুলের শঙ্কা থাকে। জাতীয় কাবাডি দলের অধিনায়ক মিজানুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা পেলে ফিটনেস বাড়ানো আরও সহজ হতো।
কারণ শুধু কি অর্থসংকট? সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আর্থিক সংকটের কথা বললেও, বিশেষজ্ঞরা কেবল অর্থকেই একমাত্র দায়ী করছেন না। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. নাসিম রেজার মতে, “আমরা সব সময় বলি আর্থিক কারণে পারছি না, এটা আসলে ঠিক নয়। আন্তরিকতারও প্রয়োজন আছে। আমাদের দুর্ভাগ্য এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় ক্রীড়ানীতি গ্রহণ করা হয়নি।”