বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ
ডারউইন, ১২ জুন : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে চোরাকারবারি ভেবে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি রাতে থানায় নিয়েও হয়রানি…
ঢাকা২০২৫: নারী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। তাঁর সাফল্যের গল্প শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, তা বদলে দিয়েছে গ্রামের মানুষের মানসিকতাও। বিশ্বকাপে মেয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত রাবেয়ার বাবা এখন গ্রামে বিশেষ সম্মান পান।
গত পরশু শেষ হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন রাবেয়া। মুঠোফোনে নিজের আনন্দের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাবাকে যারা কটূক্তি করত, তারাই এবার ওনার সঙ্গে বসে টিভিতে বিশ্বকাপের খেলা দেখেছে। এটা জেনে খুব খুশি লেগেছে।”
পেসার থেকে লেগ স্পিনার: বরিশালের উজিরপুরের এই কিশোরী ক্রিকেটে এসেছিলেন অনেকটা আকস্মিকভাবে। শুরুতে তাঁর আগ্রহ ছিল ফুটবলকে ঘিরে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলে নজর কাড়ার পর বিকেএসপির ক্যাম্পে গিয়ে পাশের মাঠে মেয়েদের ক্রিকেট খেলতে দেখে আগ্রহ জন্মায়।
তবে ক্রিকেটে রাবেয়ার শুরুটা ছিল পেসার হিসেবে। উচ্চতা কম হওয়ায় বিকেএসপির কোচরা তাঁকে লেগ স্পিনার হওয়ার পরামর্শ দেন। এই পরিবর্তনই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। ২০১৯ সালে ট্রায়াল দিয়ে তিনি বিকেএসপিতে ভর্তি হন।

উইকেট পাওয়ার পর রাবেয়া খানের উচ্ছ্বাস
বাবার নীরব লড়াই: একসময় রাবেয়ার ক্রিকেট খেলা নিয়ে তাঁর বাবা ইমদাদুল হক খানকে গ্রামে নিয়মিত কটূক্তি শুনতে হতো। সেই কঠিন দিনগুলোর কথা মনে করে রাবেয়া বলেন, “বরিশালে বাবাকে কেউ দেখলেই বলত, মেয়েকে কোথায় দিলা, খুব খারাপ কাজ করেছ ক্রিকেট খেলতে দিয়ে। কিন্তু বাবা আমাকে কোনো দিন এসব বলেননি, বুঝতেও দেননি।”
এখন সেই কটূক্তিকারীরাই রাবেয়ার ভক্ত। মেয়ের সৌজন্যে বাবা এখন গ্রামে বিশেষ সম্মান পাচ্ছেন।
বিশ্বকাপে আফসোস ও স্বপ্ন: এবারের বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়ে যাওয়ায় আফসোস আছে রাবেয়ার। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ ছিল। মাত্র এক ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শেষ করাটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর।
ফাইনালে ভারতকে ট্রফি জিততে দেখে রাবেয়া বলেন, “তখন এত খারাপ লেগেছে…। মনে হয়েছে আমরাও তো ওখানে থাকতে পারতাম! সেমিফাইনালে যারা উঠেছে, তাদের কাউকে কাউকেও তো আমরা প্রায় হারিয়েই দিয়েছিলাম!”
তিনি এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখেন। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন রাবেয়া। তিনি এখন নারী ক্রিকেটকে শীর্ষ দল হিসেবে দেখতে চান। তাঁর প্রতিজ্ঞা, “কোনো একদিন হয়তো আমরা ফাইনাল খেলব, বিশ্বকাপে জিতব।” অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানার কাছ থেকেও তিনি নেতৃত্বের খুঁটিনাটি শিখে নিচ্ছেন।