হঠাৎ সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন রাহুল—কী হয়েছিল সেদিন বিকেলে?
ডারউইন, ৩০ মার্চ: রোববারের সেই বিকেলটা ছিল একেবারেই সাধারণ। দিঘা সংলগ্ন তালসারি সৈকতে চলছিল ধারাবাহিকের শুটিং। ইউনিটের সদস্যদের কোলাহল, ক্যামেরার আলো, সংলাপের রিহার্সাল—সব মিলিয়ে ছিল…
লস অ্যাঞ্জেলেস, অ্যারিজোনা: ৬ নভেম্বর, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অভিনেত্রী এমা স্টোন আজ ৩৭ বছরে পা দিলেন। এমিলি জিন স্টোন (এমা স্টোনের পুরো নাম) তাঁর অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে হলিউডে নিজের এক স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, গ্ল্যামার নয়, বরং আবেগ, মানবিকতা ও শিল্পবোধই একজন অভিনেতার আসল শক্তি।

চার বছর বয়স থেকেই মঞ্চের প্রতি আকর্ষণ ছিল এমার। ১১ বছর বয়সে থিয়েটার দলে যোগ দেন। অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণে মা-বাবাকে রাজি করাতে তিনি একবার ‘প্রজেক্ট অব হলিউড’ নামের একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনও তৈরি করেছিলেন। ২০০৭ সালে ‘সুপারব্যাড’ চলচ্চিত্রের ছোট একটি চরিত্র দিয়ে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক হয়, কিন্তু ‘ইজি এ’ সিনেমাটি তাঁকে হলিউডের নতুন প্রজন্মের প্রিয় মুখে পরিণত করে।

শৈশবে এমা স্টোনের অতিরিক্ত কান্নার রোগ ছিল, যার কারণে তাঁর কণ্ঠে কিছুটা পরিবর্তন আসে। শুরুর দিকে তাঁর কর্কশ কণ্ঠের কারণে অনেক অডিশনে তিনি বাদ পড়তেন। তাঁকে বলা হয়েছিল ‘লাল চুলে কাজ পাবে না’। অথচ তিনি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়েছেন, এবং এখন তাঁর কর্কশ কণ্ঠ ও লালচে চুলই তাঁর অনন্য পরিচয়ের অংশ। দর্শক তাঁর হাসি নিয়েও দারুণ প্রশংসা করেন, যাকে পরিচালক ডেমিয়েন শ্যাজেল ‘সিনেমাটিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এমা স্টোনের ক্যারিয়ারের সেরা সময় ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল। ২০১২ সালে ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান’ দিয়ে আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর তিনি দুইবার সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতেছেন:
২০১৭: ‘লা লা ল্যান্ড’ (এই সিনেমার জন্য ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পান)।
২০২৪: ‘পুওর থিংস’।
তাঁর এই কাজগুলো ‘শিল্পীসত্তা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস ও মানবিক সংবেদনশীলতার প্রতীক’ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

এমা স্টোন ২০২০ সালে পরিচালক ও লেখক ডেভ ম্যাককারিকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালে তাঁদের এক কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজেকে ‘ইন্ট্রোভার্ট কমেডিয়ান’ হিসেবে বর্ণনা করেন—প্রকাশ্যে লাজুক, কিন্তু ক্যামেরার সামনে দুর্দমনীয়। তিনি বহুবার জানিয়েছেন, শৈশবের পার্কিনসনের অঙ্গভঙ্গিনির্ভর ভয়ভীতি মোকাবিলায় অভিনয় ছিল তাঁর একটি মাধ্যম। তিনি বিশ্বাস করেন, “নিজের প্রতি সৎ থাকা এবং ভিন্ন কেউ হওয়ার চেষ্টা নয়”—এই দর্শনই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।