ছাত্রীর বাড়ি থেকে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
ডারউইন, ১৯ মে: বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের একটি বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে জরুরি…
জাতীয় : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির আশা করেছিল দেশবাসী, তবে বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঢাকার অনেক এলাকায় মানুষ এখন সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থায় কোথাও কোথাও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় মানুষজন নিজেরাই পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় জনসংযোগকালে দুর্বৃত্তের গুলিতে একজনের মৃত্যু।
গত শনিবার রাতে রাজশাহীর মোহনপুরে গলায় ছুরিকাঘাত নিয়ে অটোরিকশাচালকের মৃত্যু।
নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্যাসিস্ট ও পেশাদার অপরাধী দমন করতে পুলিশ ও র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা জরুরি। তবে সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে গত ১৫ মাস ধরে মাঠে থাকা সেনাসদস্যরা এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা একটি সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্যারাকে ফিরতে চান।
সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাই সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।
সেনাবাহিনী নির্বাচনের সময় মাঠে অন্তত এক লাখ সেনাসদস্যকে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য অর্ধেকের মতো সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পর তাঁদের আবার মাঠে পাঠানো হবে।
আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) প্রধান লে. জেনারেল মো. মাইনুর রহমান বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর মব সৃষ্টি, মাজার ভাঙা, ছিনতাই-চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বেড়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি ভয় কমে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নামা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিক্ষোভ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে অনেক সময় পুলিশকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ডাকতে হচ্ছে।
ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। পুলিশের সদস্যদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে এবং তাঁরা কঠোরতা দেখাতে চাইছেন না, কারণ কঠোর হলেই সাধারণ মানুষ অপপ্রচার শুরু করে দেয়, যা মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবেই সহিংসতা বাড়ছে এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে।
র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচন সামনে রেখে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।