হঠাৎ সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন রাহুল—কী হয়েছিল সেদিন বিকেলে?
ডারউইন, ৩০ মার্চ: রোববারের সেই বিকেলটা ছিল একেবারেই সাধারণ। দিঘা সংলগ্ন তালসারি সৈকতে চলছিল ধারাবাহিকের শুটিং। ইউনিটের সদস্যদের কোলাহল, ক্যামেরার আলো, সংলাপের রিহার্সাল—সব মিলিয়ে ছিল…
ঢাকা: আজ ৬ নভেম্বর, শক্তিমান অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের জন্মদিন। ১৯৩১ সালে জামালপুরের মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী তাঁর গভীর কণ্ঠ, রাজকীয় উপস্থিতি এবং হৃদয়স্পর্শী অভিনয় দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন।
১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ চলচ্চিত্রে সিরাজের চরিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে রাতারাতি কিংবদন্তীতে পরিণত করে। সমালোচকরা মনে করেন, নবাবের মৃত্যুর দৃশ্যে তাঁর সংলাপ উচ্চারণ ও মুখের অভিব্যক্তি এতটাই আবেগময় ছিল যে দর্শকেরা একে বাস্তবের কান্না বলে ভুল করতেন। সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি ‘বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন নবাব’ অভিধায় ভূষিত হন।
আনোয়ার হোসেনের সংস্কৃতিমনা পরিবেশ ছিল শৈশব থেকেই। স্কুল-কলেজে নাটকে অভিনয়, এরপর ঢাকায় এসে বেতার নাটকে কাজ করা এবং ‘মিনার্ভা থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠা করা—এগুলোই ছিল তাঁর ভিত। ১৯৫৯ সালের নাটক ‘এক টুকরো জমি’ তাঁকে চলচ্চিত্রের হাতছানি এনে দেয়। ১৯৬১ সালে খলনায়ক হিসেবে ‘তোমার আমার’ দিয়ে শুরু হলেও, ‘সূর্যস্নান’-এ নায়ক হওয়ার পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, আনোয়ার হোসেনের অভিনয়ের যে হৃদয়স্পর্শী গভীরতা ছিল, সে কারণেই তাঁকে একসময় সবাই ভালোবেসে ‘কিং অব হার্ট অ্যাটাক’ নামে ডাকত। তাঁর সংলাপে যে ভেতরের ঝড় ও চোখের অশ্রুমাখা শূন্যতা থাকত, তা দর্শকের বুকে সত্যিকারের ব্যথা জাগাত। ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবিতে তাঁর সংলাপ—“মানুষ ভালো থাকতে চায়, কিন্তু পারে না”—যেন তাঁর শিল্পের দর্শনকেই তুলে ধরে। তিনি চরিত্রাভিনেতাদের মধ্যে এক অনন্য অধ্যায় ছিলেন, যাঁর অভিনয়শৈলী তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা।
আনোয়ার হোসেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ‘ভাত দে’। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি একুশে পদক (১৯৮৫), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা (২০১০) সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
এই মহান শিল্পী ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৮২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই আজ তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র ও গান প্রচার করে তাঁকে স্মরণ করছে।