ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন শর্তসাপেক্ষ এবং সীমাযুক্ত। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো রকমের ভারসাম্য নষ্ট না করার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
জুলাই সনদ নিয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ‘অতি জরুরি’ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই না প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো রকমের ভারসাম্য নষ্ট হোক। আমরা সেটি অ্যাফোর্ড করতে পারব না এই মুহূর্তে।”
তিনি সতর্ক করেন, “পতিত স্বৈরাচার এবং তাদের দোসর একটি দেশ এই সুযোগ নেওয়ার জন্য বসে থাকবে।” তাই “বাস্তবতার নিরিখে” পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
সমর্থন শর্তসাপেক্ষ: নির্বাচনই মূল কন্ডিশন
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিএনপির সমর্থন ‘কন্টিনিউয়াস’ থাকলেও তা সীমাহীন নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমাদের সমর্থন আরও অব্যাহত থাকবে, তবে এটা কন্ডিশনাল (শর্তসাপেক্ষ)। আমাদের সমর্থন আরও অব্যাহত থাকবে, তবে এটা সীমাহীন নয়।”
তাঁর কথায়, “আমরা চাই, আপনার নেতৃত্বে একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন—এটাই হচ্ছে কন্ডিশন (শর্ত)।… আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য এই সীমারেখার মধ্যে আপনাকে সমর্থন দিচ্ছি, আপনি দয়া করে এটা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।” বিএনপি নেতা জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যেই যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাঁর দল।
সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও ‘রাজত্ব’ সৃষ্টির অভিযোগ
সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠকে নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বদলি–পদায়নের জন্য মন্ত্রিসভার যে ‘ক্যাবিনেট কমিটি’ করে দেওয়া হয়েছে, সেটার কোনো চর্চা নেই।
তিনি বলেন, “তারা যা করছে পদোন্নতি বা নিয়োগ–বদলির মধ্যে, সেটা ওখানে একটা রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আপনি খোঁজ নেবেন। আমরা খুব অসন্তোষ প্রকাশ করছি।”
জুলাই সনদ ও গণভোটের অবস্থান
স্বাক্ষরে সম্মতি: বৈঠক থেকে বেরিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেন যে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে। তবে দলটির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) সেখানে পরিষ্কারভাবে দফাওয়ারি উল্লেখ থাকবে।
গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে: সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে মত দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একই দিনে একটি ছোট্ট ব্যালটে গণভোট হলে তা সবচেয়ে সুবিধাজনক, ব্যয়বহুল হবে না এবং অতিরিক্ত লোকবল বা নির্বাচনী বাক্সের প্রয়োজন হবে না।
বিলম্বিত করার প্রয়াস: গণভোট আগে অনুষ্ঠানের জন্য যারা পরামর্শ দিচ্ছে, তা নির্বাচন বিলম্বিত করার একটি প্রয়াসও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে জুলাই সনদের সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং গণভোটের মধ্য দিয়ে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণ সংসদকে গাঠনিক ক্ষমতা (Constituent Power) দেবে, যাতে করে সংস্কারগুলো প্রতিপালনে বাধ্যবাধকতা থাকে।