ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর, ২০২৫) অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই ঐক্যের সুরই দেশকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে এবং এজন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। নানা মতভেদ পেরিয়ে দলগুলো এই সনদে স্বাক্ষর করলো। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের জন্য আজকে নবজন্ম। আমাদের নবজন্ম হলো আজকে। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।”
তিনি এই অগ্রযাত্রায় পথ দেখানোর ভার তরুণদের হাতে অর্পণ করেন। তিনি বলেন, “যেই তরুণেরা এই দিনটিকে সম্ভব করেছে… এই তরুণেরাই আবার বাংলাদেশকে নতুন করে গড়বে… তারা এই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা আমাদের পথ দেখাবে।”
নানা মতভেদ সত্ত্বেও ঐকমত্যের সফলতা
ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ভয়ে ভয়ে’ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “সমস্ত জাতি একসঙ্গে হয়ে, সমস্ত রাজনৈতিক নেতা একসঙ্গে হয়ে তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করছেন। এ রকম ঘটনা ঘটবে, এ রকম কেউ আমরা চিন্তাও করতে পারিনি।”
তিনি এই কঠিন কাজ সমাধা করার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের কৃতিত্ব দেন এবং বলেন, “তাঁদের নাম ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে।” অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন ‘বর্বর জগৎ’ থেকে বেরিয়ে সভ্যতার পথে যাত্রা শুরু করেছে।
ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্য ঐক্যের আহ্বান
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নির্বাচনের ব্যাপারেও ঐকমত্যে আসেন।
তিনি বলেন, “যে সুর আজকে আমরা এখানে বাজালাম, সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ঐক্যের সুর, ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব… আপনারা রাজনৈতিক নেতারা বসে, বিভিন্ন দলের নেতারা বসে একটা সনদ করেন, কীভাবে নির্বাচন করবেন। সবাই মিলে এমনভাবে নির্বাচন করব, দুনিয়ার কেউ এসে বলতে পারবে না এখানে ক্ষতি হয়েছে।”
জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের কাতারে থাকা তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাম ধারার চারটি দল (সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ) এই সনদে সই করেনি এবং অনুষ্ঠানেও যোগ দেয়নি। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও গণফোরাম সনদে সই করেনি।
পাঠ্যপুস্তকে থাকবে সনদের ইতিহাস
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন, জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে থাকবে। বিতর্কগুলো ভিডিও আকারে তৈরি করে ছাত্রদের হাতে দেওয়া হবে, যাতে তারা অনুপ্রাণিত হয়। তিনি আরও বলেন, এই সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলো এবং অন্যান্য দেশ আমাদের কাছ থেকে শিখতে আসবে।