সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোর চলছে দুদকে,তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাওয়ের সাব রেজিস্ট্রার…
ডারউইন, ০৬ মে: ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চললেও পারস্য উপসাগরে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দর থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে নোঙর করে আছে।
মঙ্গলবার জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইরানি নৌবাহিনীর (সেফা নেভি) কাছ থেকে জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।
গত ২৬ জানুয়ারি পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করা এই জাহাজটি দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। সম্প্রতি আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর ওই অঞ্চলে পুনরায় অস্থিরতা শুরু হয়। ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “ইরানিয়ান সেফা নেভির কাছ থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর জাহাজের অবস্থান পরিবর্তন করেছি। এখন হরমুজের ইরানিয়ান সীমানার ৪৩ নটিক্যাল মাইল এবং দুবাই থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা হয়েছে।”
এর আগে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য জাহাজটি মিনা সাকার বন্দর থেকে শারজাহ বন্দরে গিয়েছিল। তবে সোমবার দুপুরে পুনরায় সতর্কবার্তা পাওয়ায় নিরাপদ দূরত্বে সরে আসে জাহাজটি।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। তবে ইরানের অনুমতি না মেলায় এটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি। পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল আবারও চেষ্টা চালানো হলেও ইরানি নৌবাহিনীর বাধায় জাহাজটি আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করেছেন, জাহাজে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকই নিরাপদ আছেন। তিনি বলেন, “ইরানি কর্তৃপক্ষের সতর্কতার পর জাহাজটি অবস্থান বদল করেছে। জাহাজে পর্যাপ্ত পানি, জ্বালানি তেল ও খাবার রয়েছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস করছিল। সে সময় জাহাজটি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়, যা নাবিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে, যা নিয়ে এর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে যাওয়ার কথা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত এই জাহাজটি এবং এর ৩১ জন নাবিকের নিরাপত্তা নিয়ে এখন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ভবিষ্যৎ যাত্রা এখনো অনিশ্চিত।