হঠাৎ সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন রাহুল—কী হয়েছিল সেদিন বিকেলে?
ডারউইন, ৩০ মার্চ: রোববারের সেই বিকেলটা ছিল একেবারেই সাধারণ। দিঘা সংলগ্ন তালসারি সৈকতে চলছিল ধারাবাহিকের শুটিং। ইউনিটের সদস্যদের কোলাহল, ক্যামেরার আলো, সংলাপের রিহার্সাল—সব মিলিয়ে ছিল…
ঢাকা: ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে একটানা আলো ছড়িয়ে চলেছেন জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। বাংলা, হিন্দি ও উর্দুসহ ১৭টি ভাষায় গান গেয়ে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে নিজের আসন পাকা করেছেন এই মহাতারকা। তবে তাঁর এই আলোকিত পথচলার শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না; সত্তরের দশকে বাংলাদেশে ফিরে তাঁকে পড়তে হয়েছিল ঈর্ষা, বয়কট আর নানা প্রতিকূলতার মুখে। আজ তাঁর দীর্ঘ সংগীতযাত্রার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন চলছে।
সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেলেও ছোটবেলায় রুনা লায়লার শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। পাকিস্তানের করাচিতে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে তিনি চার বছর কত্থক ও ভরতনাট্যম শেখেন। মজার বিষয় হলো, নিজের জমানো টাকায় ঘুঙুর কিনে সারা বাড়ি নেচে বেড়াতেন তিনি।
তবে ভাগ্য তাঁকে গানের দিকেই টেনে আনে। বড় বোন দিনা লায়লার গানের তালিম নেওয়ার সময় পাশের ঘরে ঘুরতে ঘুরতে রুনা সেই গান মুখস্থ করে গাইতেন। একদিন ওস্তাদ আবদুল কাদের মুগ্ধ হয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন—একদিন রুনা লায়লা গানে অনেক সুনাম কুড়াবে। নাচের তালিম নেওয়া রুনা লায়লা এভাবেই হয়ে ওঠেন গানের মহাতারকা।
সংগীতজীবনের শুরু: বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা পাকিস্তানে কেটেছে রুনা লায়লার। ১৯৬৪ সালের ২৪ জুন করাচির ইস্টার্ন স্টুডিওতে তিনি প্রথম গান রেকর্ড করেন। পরের বছর, মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘জুগনু’ ছবিতে তাঁর সেই প্রথম উর্দু গান—‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি’ মুক্তি পায়।
গিনেস বুকে নাম: রুনা লায়লা ১৭টি ভাষায় গান করেছেন। মুম্বাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি সুরকার নিসার বাজমির সুরে তিন দিনে মোট ৩০টি গান রেকর্ড করেন, যা পরে বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে গিনেস বুকে স্থান পায়। সুপার রুনা: ১৯৮২ সালে বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে তাঁর ‘সুপার রুনা’ অ্যালবামটি মুক্তি পায়, যার প্রথম দিনেই লাখ কপি বিক্রি হওয়ায় তাঁকে গোল্ড ডিস্ক দেওয়া হয়েছিল।সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বাবার চাকরির সূত্রে রুনা লায়লা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তখনই তাঁকে ক্যারিয়ারে বাধার মুখে পড়তে হয়। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সমসাময়িক শিল্পীদের অনেকে তাঁকে বয়কট করেন এবং একসঙ্গে মঞ্চে বা স্টুডিওতে কাজ করতে অস্বীকার করেন।
তবে এই কিংবদন্তি এসব নিয়ে মোটেও বিচলিত হননি। তিনি বলেন: “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। এটা কোনোভাবে আমাকে মন খারাপ বা হতাশায় পড়তে দেয়নি।” তিনি জানান, তিনি বরাবরই গান দিয়েই সব মোকাবিলা করতে চেয়েছেন এবং পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষায় কারও ক্ষতি না করে মানুষের উপকার করার নীতিতে বিশ্বাসী।
৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন:
রুনা লায়লার দীর্ঘ সংগীতযাত্রার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘স্টার নাইটের’ একটি বিশেষ পর্ব। এতে শিল্পীর জীবনের নানা গল্প, স্মৃতি এবং ভারত ও পাকিস্তানের খ্যাতনামা শিল্পী-সুরকারদের স্মৃতিচারণা দেখানো হবে।