স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ধস
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
ঢাকা/নিউইয়র্ক: বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত কয়েক দিনের অস্থিরতার পর আজ বুধবার (২২ অক্টোবর, ২০২৫) সকালে কিছুটা বেড়েছিল, তবে দিনের শেষ ভাগে তা আবার কমে গিয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের প্রতি আউন্সের দাম আগের দিনের চেয়ে ১.৪ শতাংশ কমে ৪০৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর আগে আজ সকালে স্পট গোল্ডের দাম আগের দিনের চেয়ে ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,১৩৪.৩৭ ডলার হয়েছিল। সোনার দামে এই উত্থান-পতন শুরু হয়েছে মঙ্গলবারের বড় দরপতনের পর।
গতকাল (মঙ্গলবার) সোনার দাম এক দিনেই ৫ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল, যা ২০২০ সালের আগস্ট মাসের পর সবচেয়ে বড় পতন। রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবারের বড় দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা কম দামে সোনা কিনতে আগ্রহী হওয়ায় এবং ডলারের দাম কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে আজ সকালে সোনার দাম কিছুটা বেড়েছিল। ভবিষ্যতের বাজারের জন্য কেনা স্বর্ণের দামও আজ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,১৪৭.১০ ডলার হয়েছে।
বর্তমানে সোনার বাজার স্বাভাবিক ধারায় ফেরার প্রধান কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা কমাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্টোনেক্স কোম্পানির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় সোনার বাজার স্বাভাবিক ধারায় আসছে।”
চলতি বছরে সোনার দাম প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। গত সোমবার এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম প্রতি আউন্সে ৪,৩৮১.২১ ডলারে পৌঁছেছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা এবং সুদের হার কমার প্রত্যাশাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে, যা ভবিষ্যতে সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। এই তথ্য সোনার দামে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।