চাঁদে মানুষের শহর গড়ার ঘোষণা দিলেন ইলন মাস্ক
মঙ্গল গ্রহ বাদ দিয়ে চাঁদে স্ব-বর্ধিষ্ণু শহর গড়ার ঘোষণা দিলেন স্পেস-এক্স প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। ১০ বছরের নতুন লক্ষ্য ও নাসার চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত।
এই ডিজিটাল সময়ে আমার মনে হয় খুব কম লোকই আছে যারা জানে না যে হোস্টিং কি, এই আরটিকেল টা শুধুমাত্র তাদের জন্য যারে এখন ও হোস্টিং কি এবং হোস্টিং কেন প্রয়োজন এই বিষয়ে জানে না। এই আরটিকেল এ আমরা বাংলাদেশের সব চেয়ে ভাল মানের হোস্টিং এর সন্ধান দেবো সবাইকে।
হোস্টিং কি শুরু করার আগে সবাইকে একটা শিক্ষামূলক গল্প শোনাই
রিফাত টেন মিনিট স্কুল থেকে একটি কোর্স কিনে ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপ শিখেছে। তো সে একদিন Html, CSS এবং JavaScript ব্যবহার করে লোকালহোস্টের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপ করলো। তার কম্পিউটারে ওয়েবসাইটের আইপি দিয়ে সে ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারে।
একদিন সে তার খালাতো ভাইয়ের মোবাইল দিয়ে উক্ত আইপি এড্রেসের সাহায্যে ঢুকতে যায় কিন্তু ঢুকতে পারে না। এখন রিফাত এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং তার মনে প্রশ্ন জাগে তার ওয়েবসাইট কেন অন্য ডিভাইসে ওপেন হচ্ছে না? আজকের পোস্টে আমরা রিফাতের এই প্রশ্নের উত্তরটি দেব। চলুন আমাদের আজকের আলোচনা শুরু করি।

হোস্টিং কি
হোস্টিং হলো একটি অনলাইন পরিসেবা যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে প্রকাশ করা যায়। অতএব একটি ওয়েবসাইট কোডিং ব্যবহার করে তৈরী করা হলেও পুরো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য হোস্টিং প্রয়োজন। রিফাতের ক্ষেত্রে রিফাত তার ওয়েবসাইটের সকল ফাইল নিজের কম্পিউটারে রেখেছে।
একারণে সে তার কম্পিউটার দিয়ে ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারছে। কিন্তু তার খালাতো ভাইয়ের মোবাইলে ওয়েবসাইটের ফাইল গুলো নেই তাই সে ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারছে না। এখন রিফাত যদি তার ওয়েবসাইটে যেকোন মোবাইল দিয়ে ঢুকতে চাই তাহলে তাকে কোন হোস্টিং এ তার ওয়েবসাইট আপলোড করতে হবে।
হোস্টিং সাধারনত পাঁচ প্রকার:-
১. শেয়ার্ড হোস্টিং
২. ভিপিএস হোস্টিং
৩. ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং
৪. ক্লাউড হোস্টিং
৫. ডেডিকেটেড হোস্টিং
এবার আমরা উপরে উল্লেখিত প্রকারভেদ গুলোর বিস্তারিত আলোচনা করবো।
শেয়ার অর্থ ভাগ করা। অতএব একটি হোস্টিং সার্ভারে অনেক গুলো ওয়েবসাইট হোস্ট থাকলে তাকে শেয়ার্ড হোস্টিং বলে। বর্তমানে কম দামী এবং সবথেকে জনপ্রিয় হলো শেয়ার্ড হোস্টিং। ছোট ব্লগ, নতুন ওয়েবসাইট, ওয়েবসাইট ডিজাইন শেখার জন্য, পোর্টফোলিও ইত্যাদি ক্ষেত্রে শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করা হয়।
১. কম দামে পাওয়া যায়।
২. নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
৩. পারফরম্যান্স ভালো।
অসুবিধা:
১. খারাপ কোম্পানি থেকে নিলে ওয়েবসাইট ডাউন হতে পারে।
২. একসাথে প্রচুর ভিজিটর আসলে ওয়েবসাইট স্লো অথবা ডাউন হতে পারে।
৩. সবকিছুর এক্সেস পাওয়া যায় না।
শেয়ার্ড হোস্টিং এর মতো ভিপিএস হোস্টিং এর ক্ষেত্রে এক স্থানে অনেক গুলো ওয়েবসাইট হোস্ট করা থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিটা ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা সুবিধা থাকে। তাই কোন একটি ওয়েবসাইটে অনেক ভিজিটর আসলেও অন্য ওয়েবসাইটে কোন প্রভাব পড়ে না। জনপ্রিয় ব্লগ, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, নিউজ ওয়েবসাইট ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহার করা হয়।
১. ওয়েবসাইট ডাউন হওয়ার আশঙ্কা কম।
২. পারফরম্যান্স অনেক ভালো পাওয়া যায়।
৩. রুট এক্সেস পাওয়া যায়।
১. দাম তুলনামূলক বেশি।
২. নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
৩. একসাথে প্রচুর ভিজিটর আসলে স্পিড কমে যেতে পারে।
ওয়ার্ডপ্রেস হলো বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয় সিএমএস। তাই ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য আলাদা হোস্টিং তৈরী হয়েছে। এই ধরনের হোস্টিং কিছু ফিচার থাকে যা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়িয়ে দেয়। যেকোন ধরনের ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইটে এই হোস্টিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
১. ওয়ার্ডপ্রেস অপ্টিমাইজড।
২. দাম তুলনামূলক কম।
৩. ওয়ার্ডপ্রেস প্রি-ইনস্টলড থাকায় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
১. শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে।
২. ওয়েবসাইট প্রচুর ভিজিটর আসলে ডাউন হয়ে যেতে পরে।
৩. রুট এক্সেস পাবেন না।
ক্লাউড হোস্টিং এর ক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট অনেক গুলো সার্ভারে হোস্ট থাকে। কোন একটি সার্ভারে সমস্যা হলে ওয়েবসাইটকে অন্য সার্ভারে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে ডাউন হওয়া অথবা স্পিড নিয়ে কোন সমস্যা হয় না। জনপ্রিয় ব্লগ, জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল সাইট, ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
১. স্পিড এবং ডাউন হওয়া নিয়ে সমস্যা হয় না।
২. লোড ব্যালেন্সার থাকার কারনে অতিরিক্ত ট্রাফিক এবং DDoS অ্যাটাক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৩. শেয়ার্ড হোস্টিং এর মত নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ।
১. দাম অনেক বেশি।
২.রুট এক্সেস সাধারণত দেওয়া হয় না।
ডেডিকেটেড হোস্টিং এর ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ ফিজিক্যাল স্টোরেজ এবং সার্ভার দিয়ে দেয়া হয়। ডেডিকেটেড হোস্টিং নিলে সার্ভারের উপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সাধারণত অনেক বড় বড় এজেন্সি ওয়েবসাইট ডেডিকেটেড হোস্টিং ব্যবহার করে।
১. সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেয়।
২. রুট এক্সেস সহ সম্পূর্ণ এক্সেস পাওয়া যায়।
৩. ওয়েবসাইট ডাউন হওয়ার কোন আশংকা থাকে না।
১. দাম অনেক বেশি।
২. নিয়ন্ত্রণ করার জন্য টেকনিক্যাল বিষয়ে অনেক জ্ঞান থাকা লাগে।
বর্তমানে প্রচুর হোস্টিং কোম্পানি গড়ে উঠেছে। কিন্তু এর মধ্যে সবথেকে সেরা সার্ভিস কোন কোম্পানি দেয় সেটা সহজে বের করা যায় না। এই অংশে আমরা দেখবো কোন কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনলে কোন কোন বিষয় গুলো বিবেচনায় আনা উচিত।
১. কন্ট্রোল প্যানেল
হোস্টিং সহজে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কন্ট্রোল প্যানেল ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানি সাধারণত Cpanel ব্যবহার করে। Cpanel অনেক অপ্টিমাইজড এবং সহজ কন্ট্রোল প্যানেল। এছাড়া আরোও অনেক কন্ট্রোল প্যানেল রয়েছে। হোস্টিং কেনার আগে কোম্পানির প্যাকেজ থেকে দেখে নিবেন তারা কোন কন্ট্রোল প্যানেল প্রোভাইড করে।
২. আপটাইম গ্যারান্টি
সাধারণত প্রতিটা কোম্পানি ১০০% শতাংশ আপটাইম গ্যারান্টি দেয়। অর্থাৎ ওয়েবসাইট কখনোই ডাউন হবে না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে যায়। এর জন্য আপটাইম চেকার দিয়ে আপটাইম চেক করে নিবেন।
৩. ২৪/৭ সাপোর্ট
হোস্টিং কেনার আগে সাপোর্টের বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় আনা উচিত। বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানি ২৪/৭ সাপোর্ট দিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের সাপোর্ট টিম কতটা দক্ষ সেটা আপনাকে জেনে নিতে হবে।
৪. কোম্পানির রিভিউ
হোস্টিং কেনার আগে অবশ্যই কোম্পানির রিভিউ দেখে নিবেন। তাদের হোস্টিং এর পারফরম্যান্স কেমন, সাপোর্ট টিম কেমন, সার্ভিস কেমন ইত্যাদি সব কিছু রিভিউ দেখলে জানতে পারবেন। ফেসবুক গ্রপে পোস্ট করার মাধ্যমে রিভিউ নিতে পারেন।
৫. সিকিউরিটি
ওয়েবসাইটের জন্য সিকিউরিটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সহজেই ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যায়। ওয়েবসাইটের মালিক সতর্ক থাকলেও কোম্পানির জন্য ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যেতে পারে। তাই যে কোম্পানি থেকে কিনবেন তারা কেমন সিকিউরিটি দিবে সেই বিষয়টি যেনে নিবেন।
বাংলাদেশের অনেক ওয়েব হোস্টিং আমরা ব্যবহার করেছি, আমরা আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা দেখে বলছি দামে কম মানে ভাল হিসেবে putul hosting অনেক ভালো সার্ভিস দেয়। আপনি ও আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কিনতে পারেন। হোস্টিং কেনার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন
[button color=”orange” size=”medium” link=” https://control.putulhost.com/aff.php?aff=3605″ icon=”” target=”false” nofollow=”true”]Buy Now[/button]
একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই হোস্টিং প্রয়োজন। এছাড়া ওয়েবসাইটের ৫০% পারফরম্যান্স হোস্টিং এর উপর নির্ভর করে। তাই ভালো মানের হোস্টং কেনা অনেক জরুরী। উপরে আমরা হোস্টিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশাকরি উপরোক্ত আলোচনা আপনাদের হোস্টিং কি এবং হোস্টিং কেন প্রয়োজন এই নিয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এছাড়া যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করুন।
আরো জানুন
How to Create a Memory-Optimized Table in SQL Server