ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া
ডারউইন, ১৫ মে: ঢাকার সঙ্গে মুম্বাইয়ের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’।…
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চাঁদে মানুষের প্রথম পা রাখার প্রায় ৫৫ বছর পর আবারও শুরু হয়েছে চন্দ্রজয়ের তোড়জোড়। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নভোচারীসহ ‘আর্টেমিস ২’ (Artemis 2) অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে নাসা।
গত সেপ্টেম্বর মাসে নাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপ্রশাসক লেকিশা হকিন্স এই তথ্য জানিয়ে বলেন, আর্টেমিস ২ মিশনে প্রথম নভোযান উৎক্ষেপণের সুযোগ আসতে পারে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এর আগে এপ্রিল মাসে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকলেও সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে।
আর্টেমিস মিশনের লক্ষ্য: পাঁচ দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম নভোচারী নিয়ে চাঁদে মিশন পাঠাচ্ছে। অ্যাপোলো প্রোগ্রামের পর নেওয়া এই আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের অব্যাহত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী গন্তব্য মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। চীনকে পেছনে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র এই আগাম মিশনের পরিকল্পনা করেছে। চীনের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানো।

আর্টেমিস ২: পরীক্ষামূলক ফ্লাইট আর্টেমিস ২ মিশনটি চাঁদের কক্ষপথে একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ওরিয়ন ক্যাপসুল, এসএলএস রকেট এবং নভোচারীর জীবনধারণ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে।
মিশনের সময়কাল: প্রায় ১০ দিন।
দূরত্ব: চারজন নভোচারী ১২ লাখ মাইলের বেশি দূরত্ব পাড়ি দেবেন।
গতিপথ: পৃথিবীর কক্ষপথে দুবার ঘুরে আসার পর ওরিয়ন ক্যাপসুল চাঁদের দিকে যাত্রা করবে এবং একবার চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে।

নভোচারীরা ক্যাপসুলের জানালা থেকে চাঁদের দূরপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবেন। এ সময় চাঁদ থেকে তাদের নিকটতম দূরত্ব হবে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার।
আর্টেমিস ৩: চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ আর্টেমিস ২ মিশন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আর্টেমিস ৩ মিশনে ব্যবহার করা হবে, যা ২০২৭ সালে পরিচালিত হবে। এই অভিযানের মাধ্যমেই ৫৭ বছরের বেশি সময় পর আবার চাঁদের বুকে মানুষের পা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাসার কর্মকর্তা লেকিশা হকিন্স জানান, আর্টেমিস ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে, যেখানে স্থায়ীভাবে অন্ধকার অঞ্চল ও পানির উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অবতরণের সম্ভাব্য ১৩টি স্থানের নাম প্রকাশ করেছে নাসা। এসব এলাকা থেকে চন্দ্রসম্পদ ও সৌরজগতের বিস্তৃত ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভের সুযোগ আছে।

আর্টেমিস ২–এর নভোচারীরা।
চার নভোচারী: চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের জন্য নির্বাচিত ক্রুদের মধ্যে আছেন— ১. কমান্ডার: রিড ওয়াইজম্যান (মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন) ২. পাইলট: ভিক্টর গ্লোভার (প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে চন্দ্রাভিযানে) ৩. মিশন স্পেশালিস্ট: ক্রিস্টিনা কোচ (প্রথম নারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার রেকর্ডধারী) ৪. মিশন স্পেশালিস্ট: জেরেমি হ্যানসেন (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি থেকে মনোনীত)
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর তৈরি স্টারশিপ রকেট ব্যবহার করা হবে। তবে স্টারশিপ রকেটে কক্ষপথে আবার জ্বালানি সরবরাহের মতো বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নাসা আরও অন্তত একটি মিশন, অর্থাৎ আর্টেমিস ৪ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার উদ্দেশ্য হলো চাঁদের কক্ষপথে একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গলে নভোচারী পাঠাতে সহায়তা করবে।