বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় ‘গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলে জাতিসংঘে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশন (আইসিআরএফ)। সংস্থাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
গোপালগঞ্জে রক্তাক্ত সংঘর্ষ
১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশে লঞ্চ ঘাট এলাকায় এনসিপির সমাবেশ থেকে ফেরার পথে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তাদের গাড়িবহরের ওপর হামলা হয়। এর আগেই, দুপুর ১টার দিকে সমাবেশ শুরুর আগে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পৌর পার্ক এলাকার মঞ্চে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, এ সময় অনেক সাধারণ পথচারীও হামলার শিকার হন।
সরকারি তথ্যমতে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে আইসিআরএফ জানায়, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২১ জন, এবং আরও অনেকেই আহত ও আটক হয়েছেন।
জাতিসংঘে আইসিআরএফ-এর চিঠি
আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশন (ICRF) জাতিসংঘের নৈতিকতা অফিসে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। চিঠিতে তারা দাবি করে, এনসিপি একটি অনিবন্ধিত সংগঠন, যার রাজনৈতিক বৈধতা নেই। সংগঠনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে আক্রমণ চালিয়ে জাতীয় ঐতিহ্য নষ্ট করতে চেয়েছিল।
আইসিআরএফ অভিযোগ করে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এনসিপির সহিংসতাকে সমর্থন দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের উপর গুলি চালিয়েছে এবং একজন নিরীহ নাগরিককে আটক করে নির্যাতন চালিয়েছে।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থী। তারা জাতিসংঘের কাছে একাধিক বিষয়ে জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে—বিশেষ করে, গোপালগঞ্জে তথাকথিত বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের ওপর হামলা।
সরকারি তদন্ত ও সমালোচনা
পরদিন সরকার এক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি। তবে সমালোচকদের মতে, যেহেতু অভিযোগে সরকারি বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাই সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তে নিরপেক্ষতা থাকবে না। অনেকেই আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
গোপালগঞ্জের এই সহিংসতা এখন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাতিসংঘ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: The Daily Guardian