বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ডারউইন, ০১ জুন: বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার…
ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ‘আখের গোছানো’, ‘সেফ এক্সিট নেওয়া’ এবং ‘মহা ষড়যন্ত্রের’ মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় দেশের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আসা এসব অভিযোগ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এনসিপি এবং জামায়াত উভয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও তাদের এই ধরনের অভিযোগ সরকারের সঙ্গে এই দলগুলোর ক্রমবর্ধমান দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এনসিপি’র অভিযোগের তীব্রতা বৃদ্ধি
বিতর্কের সূত্রপাত হয় সপ্তাহখানেক আগে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে, যেখানে তিনি বলেছিলেন ‘অনেক উপদেষ্টা’ নিজেদের আখের গুছিয়েছেন এবং ‘সেফ এক্সিটের’ কথা ভাবছেন।তবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন অভিযোগের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেক উপদেষ্টা নিজের আখের গোছানোর কাজ করে রেখেছেন।” ‘অনেক’ থেকে সরে এসে ‘প্রত্যেক’ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উত্থাপনকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনসিপি’র পক্ষ থেকে ‘সেফ এক্সিট’ নিতে চাওয়া উপদেষ্টাদের নামের তালিকা শিগগিরই প্রকাশের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্তত পাঁচজন উপদেষ্টা প্রকাশ্যে তাদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
জামায়াতের ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ ও কণ্ঠস্বর রেকর্ডের হুমকি
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় উপদেষ্টার বিরুদ্ধে “মহা ষড়যন্ত্রের” অভিযোগ এনেছেন। তাঁর অভিযোগ, সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়করণের জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।তবে সবচেয়ে গুরুতর বিষয়টি হলো, তাহেরের এই দাবি: “কোন কোন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, আমাদের কাছে নাম আছে। তাঁদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে। মিটিংয়ে তাঁরা কী বক্তব্য দেন, এর খবর আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অনুমতি ছাড়া গোপনে কণ্ঠ রেকর্ড করা একই সঙ্গে অনৈতিক ও বেআইনি কাজ, যা বিগত স্বৈরাচারী আমলের ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ প্রবণতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি তারই ইঙ্গিত।
পারস্পরিক নিয়োগ বিতর্ক ও চক্রান্তের আশঙ্কা
অন্যদিকে, প্রশাসনকে দলীয়করণের এই অভিযোগ জামায়াতের দিকেও উঠেছে। বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনে খুঁজে খুঁজে “শিবির ক্যাডার ও জামায়াতে ইসলামী মতাদর্শের লোকজনকে” বসানো হচ্ছে। এর আগে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের বিরুদ্ধে প্রশাসনে লোক নিয়োগের ‘কাড়াকাড়ি’ করার অভিযোগ করেছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের আলোচনা সামনে এনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।”পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র লোক থাকার পরও এই দলগুলোর এমন গুরুতর অভিযোগ মূলত আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট চাপেরই বহিঃপ্রকাশ। যেসব উপদেষ্টা নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের ওপর অনৈতিক পন্থায় চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া বা নির্বাচনের সময় বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।