নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঢাকা: বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির নামে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া আদায় এবং সংঘবদ্ধ দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সরকার গঠিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। আজ রোববার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিটির সদস্যরা এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, চুক্তিতে সব সুবিধা দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে, রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা চিন্তা করা হয়নি।
পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা জানান, গত সরকারের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন চার গুণ বাড়লেও খরচ বেড়েছে ১১ গুণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনটি তৈরিই হয়েছিল দুর্নীতির জন্য, যেখানে চুক্তিগুলো ভাড়া আদায়ের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করেছে। কমিটির মতে, এটি কেবল অদক্ষতা নয়, বরং ‘দুর্নীতি জড়িত’।
শীর্ষ আমলাদের সংশ্লিষ্টতা: নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির সদস্যরা বলেন, চুক্তির প্রক্রিয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের নমুনা পাওয়া গেছে। সাবেক দুই বিদ্যুৎসচিব, যারা পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব হয়েছিলেন (আবুল কালাম আজাদ ও আহমদ কায়কাউস), তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে সংঘবদ্ধ দুর্নীতিতে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, চুক্তি বাতিলের জন্য সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির প্রমাণ প্রয়োজন, যা কমিটির সহায়তায় খুঁজে দেখা হচ্ছে। কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এতে ব্যাপক দুর্নীতি পাওয়া গেছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জানুয়ারিতে দেওয়া হবে।
কমিটির সদস্য মোশতাক হোসেন খান আদানির চুক্তির অনিয়মের বিষয়ে বলেন, এ নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে এবং মাসখানেকের মধ্যে শক্ত প্রমাণ সামনে আসবে, যা দিয়ে দেশে-বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া যাবে।
চুক্তি বাতিল করলে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কমিটির সদস্য শাহদীন মালিক বলেন, ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কমিটি বলতে পারবে না, এটি আদালতের বিষয়। মোশতাক হোসেন খান যোগ করেন, দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের দাম ২৫ শতাংশ বেশি হয়েছে। ভর্তুকি না থাকলে দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে যেত।
কমিটির সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল, কারণ মন্ত্রণালয় সব সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছিল। তিনি বলেন, পিডিবি থেকে পরিশোধ করা বিল ও উৎপাদিত বিদ্যুতের হিসাব আইনস্টাইনও মেলাতে পারবেন না।