বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ডারউইন, ০১ জুন: বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার…
রাজনীতি : নিজের বাবা মির্জা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’ হচ্ছে—দাবি করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় তাঁর বাবা ভারতে শরণার্থীশিবিরে ছিলেন।
আজ সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিএনপির মহাসচিব এই কথা বলেন। যদিও তিনি কী মিথ্যাচার হচ্ছে তা সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর বাবাকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা প্রচারণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই পোস্ট দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, “আমার বাবা সম্বন্ধে মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী রেজিমে (শাসনামল)। দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে একটি গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, তারাও এই মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে!”
দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাবা মুসলিম লীগ নেতা মির্জা রুহুল আমিন একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন। সম্প্রতি এই ধরনের কথা ওঠার পরই ফখরুলের এই প্রতিক্রিয়া।
মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের ঘটনা তুলে ধরে লেখেন, “আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আমার নানাবাড়ি যান আমার দুই ছোট ভাই আর দুই বোন এবং মাকে নিয়ে। তারপর এপ্রিলে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে! রিফিউজি ক্যাম্পে (শরণার্থীশিবির) ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়!”
তিনি জানান, ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর বাবা ফিরে আসেন এবং সব লুট হয়ে যাওয়া দেখতে পান। এরপর তাঁর মায়ের গয়না বিক্রি ও মির্জা ফখরুলের শিক্ষকতার প্রথম বেতনের টাকায় তাঁদের জীবন চলে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।
পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র মির্জা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো মামলা ছিল না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলার যা কিছু আধুনিক, এর শুরু আমার বাবার হাতে! এই জেলার প্রতিটি সৎ মানুষ জানে আমার বাবার কথা!”
বিএনপি মহাসচিব নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “আমি আশা করব, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশে মিথ্যার চাষ আমাদের ছেলেমেয়েরা করবে না! এরা সত্যের পথে থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা আর পলিসি (নীতি) দিয়ে!”
তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে পোস্টটি শেষ করেন: “হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।”