ডারউইন, ০৪ মে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত। প্রাথমিক ফলাফলে বিপুলসংখ্যক আসনে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যা দীর্ঘদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম NDTV-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মানুষ অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’ তাঁর দাবি, হিন্দু ভোটের পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে বিজেপি।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। গণনার এক পর্যায়ে বিজেপি ১৮৯টির মতো আসনে এগিয়ে থাকার দাবি করে দলটি। এতে ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের আভাস মিলছে।
সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ওঠা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, বিজেপি সম্মিলিত নেতৃত্বে বিশ্বাসী এবং এই নির্বাচনী লড়াই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বে।
নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভোট লিঙ্গভিত্তিকভাবে বিভক্ত হয়নি। তবে তাঁর ভাষ্য, হিন্দু নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির পক্ষেই গেছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিজেপি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে। জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে—এমন এলাকাতেও ভোটের এই ধারা বজায় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা ‘বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র’ ইস্যুকে ‘সস্তা রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর ভবানীপুরেও তাঁর পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।
সোমবার সকাল আটটায় পোস্টাল ব্যালট গণনার পর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ভোট গণনা শুরু হয়। প্রাথমিক ফলাফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্র: NDTV