নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দুটি গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার এবং গত জুন মাসে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। বিএনপি’র নেতারা বলছেন, এই অনুমতি জিয়া পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করেই দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও এসবি’র সুপারিশ:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের সময় জীবননাশের হুমকি থাকতে পারে—এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকির কারণ: পুলিশের এসবি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে কিংবা তাদের নিয়োগ করা দেশি-বিদেশি এজেন্টের মাধ্যমে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর শত্রুভাবাপন্ন মনোভাবের কারণে তাঁরা আক্রান্ত হতে পারেন।
আওয়ামী লীগের তৎপরতা: বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে আশঙ্কা আছে যে তারা অস্থিরতা সৃষ্টিসহ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাতে পারে।
বিএনপি’র বক্তব্য: বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, নির্বাচনের সময় তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জরুরি। সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান বা বিদেশি দূতাবাসের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। অতীতে রাজনৈতিক দলের জন্য এই ধরনের অনুমতি খুবই কম দেওয়া হয়েছে।
আমদানির খরচ: রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন (বারভিডা) জানিয়েছে, একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কিনতে ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা) খরচ হলেও, ৮০০ শতাংশ শুল্কসহ মোট খরচ ২২ কোটি টাকার মতো পড়তে পারে।অতীতের হামলা: ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র প্রার্থীর প্রচারের সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছিল, যেটি বুলেটপ্রুফ ছিল না।
বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বিএনপি। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের লাইসেন্সের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে বিবেচনাধীন আছে। বিএনপির পক্ষ থেকে কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যবহারের জন্য এই গাড়ি কেনার আবেদন করেছিলেন। লন্ডনে নির্বাসিত থাকা তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।