নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের বিষয়ে নানা ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থানে সাদৃশ্য দেখা গেলেও, জুলাই সনদে জামায়াতের স্বাক্ষর এবং এনসিপি’র স্বাক্ষর না করা নিয়ে দুই দলের সম্পর্ক এখন প্রকাশ্যে বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ এবং ‘অন্তর্ঘাত’ চালানোর মতো কঠোর অভিযোগ এনেছেন।
গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) নাহিদ ইসলাম তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেন, জামায়াতের উদ্যোগে শুরু হওয়া তথাকথিত আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) আন্দোলন একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
উদ্দেশ্য: গণ-অভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান পুনর্গঠনের মূল প্রশ্ন থেকে জাতীয় সংলাপকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়া।
কৌশল: জামায়াত ও তার সহযোগীরা এই এজেন্ডা ‘ছিনতাই’ করে এটিকে একটি কাঠামোগত পিআর বিষয়ে সীমাবদ্ধ করেছে এবং ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
অন্তর্ঘাত: তিনি লেখেন, ঐকমত্য কমিশনের অধীনে সংস্কারের বিষয়ে জামায়াতের আকস্মিক সমর্থন সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার ফল নয়, বরং একটি ‘কৌশলগত অনুপ্রবেশ’ এবং ‘রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত’।
নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত জুলাই অভ্যুত্থানের আগে বা পরে কখনোই সংস্কার আলোচনায় যুক্ত হয়নি এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি কোনো অঙ্গীকার দেখায়নি।
এনসিপি নেতাদের মতে, সংস্কার প্রশ্নে তাঁরা জামায়াতকে ‘গুড ফেইথে’ (বিশ্বাসের সঙ্গে) গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু জুলাই সনদে স্বাক্ষর করাসহ জামায়াতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রমে এনসিপি’র মধ্যে একধরনের ‘সেন্স অব বিট্রেয়াল’ (বিশ্বাসভঙ্গের বোধ) তৈরি হয়েছে।
স্বাক্ষর না করার কারণ: এনসিপি’র অবস্থান ছিল, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। এনসিপি নেতারা জামায়াতসহ কিছু দলকে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও করেছিলেন।
যোগাযোগ: সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিনও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ফোন করে অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, যা নাহিদ রাখেননি।
প্রতীক বিতর্ক: এনসিপি নেতারা মনে করছেন, জামায়াত এনসিপির দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা প্রতীক না পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে। এনসিপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বড় দলগুলোর দ্বিচারিতার পুরোনো কৌশলকে প্রতিহত করাই তাঁদের লক্ষ্য। নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টের কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রাতে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের ফেসবুক স্ট্যাটাসে পিআর পদ্ধতির সমালোচনা এবং জামায়াতের আন্দোলনকে ‘প্রতারণামূলক’ বলা ‘সর্বৈব মিথ্যা ও দুঃখজনক’। জামায়াত নেতা বলেন, “তাঁর (নাহিদ ইসলাম) কাছে এই ধরনের বালখিল্য বক্তব্য জাতি আশা করে না।” তিনি নাহিদ ইসলামকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।