হঠাৎ সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন রাহুল—কী হয়েছিল সেদিন বিকেলে?
ডারউইন, ৩০ মার্চ: রোববারের সেই বিকেলটা ছিল একেবারেই সাধারণ। দিঘা সংলগ্ন তালসারি সৈকতে চলছিল ধারাবাহিকের শুটিং। ইউনিটের সদস্যদের কোলাহল, ক্যামেরার আলো, সংলাপের রিহার্সাল—সব মিলিয়ে ছিল…
ঢাকা: পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলোর মধ্যে কুকুরের গল্প বরাবরই জনপ্রিয়। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্রাজিলিয়ান চলচ্চিত্র ‘ক্যারামেলো’ সেই তালিকায় নতুন করে ঝড় তুলেছে। ৯ অক্টোবর মুক্তির পর থেকেই এটি নেটফ্লিক্স গ্লোবাল টপচার্টের অ-ইংরেজি ভাষার শীর্ষে অবস্থান করছে।
পরিচালক ডিয়েগো ফ্রেইতাস নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি, যেখানে চিত্রনাট্য লিখেছেন রড আজেভেদো ও ক্যারোলিনা কাস্ত্রো, দর্শকদের হৃদয়ে গভীর সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
‘ক্যারামেলো’ সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে পেদ্রো নামের এক পরিশ্রমী তরুণকে ঘিরে। শেফের সহকারী পেদ্রো স্বপ্ন দেখেন একদিন তাঁর রেসিপি রেস্তোরাঁর মূল মেনুতে জায়গা করে নেবে। তাঁর স্বপ্ন পূরণের দিনে ঘটে যায় এক অঘটন, যার কেন্দ্রে ছিল একটি রাস্তার কুকুর—ক্যারামেলো।

ক্যারামেলো’র দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
গল্পের মোড়: রেস্তোরাঁর অঘটনের পর পেদ্রোর জীবনে প্রায় সবকিছু হারানোর উপক্রম হয়। ঠিক তখনই ক্যারামেলো তাঁর জীবনে ত্রাণকর্তা হিসেবে আসে, হয়ে ওঠে তাঁর আশার আলো ও পরম বন্ধু। কুকুর আর পেদ্রোর জীবনের দুর্ঘটনার এক আবেগীয় গল্প দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়।
পরিচালক ডিয়েগো ফ্রেইতাস এই গল্পকে ডিজনির রূপকথার মতো অতিরঞ্জিত বা নাটকীয়তা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও যত্নের সঙ্গে চরিত্রগুলোর টানাপোড়েন, কষ্ট, স্বপ্ন ও সংগ্রাম তুলে ধরেছেন।
সিনেমাটির প্রধান চরিত্র হলো মায়াবী কুকুর ক্যারামেলো, যার উপস্থিতি শুরু থেকেই দর্শককে টেনে নেয়। মজার ব্যাপার হলো, ক্যারামেলো চরিত্রে অভিনয় করেছে আমেনদোইম নামের একটি তিন মাস বয়সী কুকুর, যাকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবতার জয়: পরিচালক ফ্রেইতাস সিজিআই ব্যবহার না করে বাস্তব কুকুরের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সিনেমাটি আরও বাস্তবসম্মত হয়েছে। আমেনদোইমের প্রাণবন্ত উপস্থিতি হাস্যরস ও মধুর বিশৃঙ্খলা তৈরি করে পেদ্রোকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

‘ক্যারামেলো’র দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
সাংস্কৃতিক প্রতিফলন: মিশ্র প্রজাতির ক্যারামেলো কুকুর ব্রাজিলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সিনেমাটিতে বংশানুক্রমে রান্না, চার্চে প্রার্থনা করা ও পশুদের ট্রেনিং দেওয়ার মতো ব্রাজিলের সংস্কৃতিও দারুণভাবে উঠে এসেছে।
পেদ্রোর চরিত্রে রাফায়েল ভিত্তি পেশাদারত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটোগ্রাফিতে ব্যবহৃত মাটির রঙের টোন সিনেমাটিকে শান্ত অনুভূতি দিয়েছে এবং খাবারের দৃশ্যগুলো পেদ্রোর পেশার প্রতি ভালোবাসাকে প্রকাশ করেছে।
‘ক্যারামেলো’ একটি হালকা, মজার ও আবেগঘন সিনেমা। এর গল্পের শেষ সহজেই অনুমান করা গেলেও আন্তরিক উপস্থাপনই সিনেমাটিকে সার্থক করে তুলেছে। সিনেমাটি দেখার পর দর্শকের মধ্যে প্রাণীপ্রেমের প্রতি সহমর্মিতা জন্ম নিতে পারে।