নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রংপুর: ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোতে বিএনপি বিরোধিতা বা ‘ভেটো’ দেওয়ায় দলটির সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় ঐকমত্য পরিষদের (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেছেন, সরকার যদি সংস্কার ও বিচারের দাবি উপেক্ষা করে দ্রুত নির্বাচনের দিকে যায়, তবে সেই পরিবর্তন টেকসই হবে না।
আজ বুধবার বিকেলে রংপুরের পর্যটন মোটেলে দলীয় কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। রংপুর বিভাগের ৮ জেলা ও একটি মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা আজ রংপুরে এসেছিলেন।
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের ব্যাপারে বিএনপির প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সংস্কারের বিপক্ষে ঐকমত্য কমিশনে আমরা অনেক দলকে অবস্থান নিতে দেখেছি। বিএনপি অনেকগুলো বড় সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গোটা সংস্কারপ্রক্রিয়াকে তারা (বিএনপি) চায় কি না, এটা নিয়ে এখন প্রশ্ন তৈরি হবে। পুরো সময়টায় দেখেছি আমরা, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে বিএনপি ভেটো দিয়েছে, বিরোধিতা করেছে।”
তবে অন্যান্য দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং জনগণের চাপের কারণে কিছু সময় বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছিল বলেও তিনি জানান। তিনি মনে করেন, এখন দলীয় অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই, বরং ঐকমত্য কমিশন ও গণ-অভ্যুত্থানের পরে জনগণের যে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নে কোনো বিকল্প নেই।
নাহিদ ইসলাম দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, দেশে স্থিতিশীলতা ও আস্থার জন্য নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সংস্কার, বিচারের দাবিকে উপেক্ষা করে যদি নির্বাচনের দিকে যাওয়া হয়, সেটি টেকসই হবে না। আমরা মনে করি, একটি টেকসই ও স্থিতিশীল পরিবর্তনের জন্য সংবিধানের কিছু জায়গায় আমরা ঐকমত্য হয়েছি, ন্যূনতম এই সংস্কার নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।” সংস্কারে বাধা বা সরকারের পক্ষ থেকে গড়িমসি হলে সেই সরকারকে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে পরিবর্তন ও প্রত্যাশা তৈরি হলেও, জনগণ এখন একটা ভয়ের মধ্যে আছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে দেশে। মানুষের মধ্যে একটা ভয় দেখতে পাচ্ছি। সবকিছু আগের মতো হয়ে যাচ্ছে কি না। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ আসবে কি না, স্বৈরতন্ত্র আসবে কি না, মানুষের কথা বলার জায়গা থাকবে কি না, এসব নিয়ে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে নানামুখী সংকট আছে। আবার পতিত স্বৈরাচারী শক্তি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। ফলে এই সংকটের মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও সমঝোতার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে আমরা রাজনীতি করব না। কিন্তু নির্বাচনের কৌশলগত কারণে বা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যদি কোনো ধরনের সমঝোতার প্রয়োজন হয়, আমরা সেটার জন্য রাজি আছি।”
তিনি বিএনপি ও জামায়াতের ঐতিহাসিক দায়ভার ও কলঙ্কের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “সেটা বিএনপি বলেন, অতীতে তাদের শাসনামল নিয়ে, দুর্নীতি নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে… একইভাবে জামায়াতেরও ঐতিহাসিক দায়ভার রয়েছে। ফলে সেই জায়গা থেকে এই ধরনের দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনে গেলে আমাদের ভাবতে হবে।”