নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রাজনীতি : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে, ঠাকুরগাঁওয়ে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। আওয়ামী লীগ যেভাবে মামলা করেছে, আমরা সেভাবে মামলা করতে চাই না।”
মামলা তুলে নেওয়ার বক্তব্য প্রত্যাহার: মতবিনিময় সভায় ফখরুল বলেছিলেন, “যদি মামলা হয়ে থাকে, তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে। যত মামলা আছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, আমরা সমস্ত মামলা তুলে নেব।”
কিন্তু এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব একটি বিবৃতি পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে দাবি করেন।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, “আমি আমার বক্তব্যে বলেছি যে, এই ইউনিয়নে হয়রানিমূলক কোনো মামলা হলে, আমরা তুলে নিব। কিন্তু দেশব্যাপী হয়রানিমূলক মামলা দায়ের কিংবা মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য প্রদান করিনি।” তিনি দলের নেতা-কর্মীদের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির দাবির তীব্র সমালোচনা করেন।
“দুর্ভাগ্যক্রমে একটা রাজনৈতিক দল, আমি নামটাই বলি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ; তারা আরও চার-পাঁচটা দল নিয়ে জবরদস্তি করতে চাচ্ছে জনগণের ওপরে। তাদের দাবিটা হচ্ছে ওদের পিআর লাগবে, পিআর… তারা এমন একটা সিস্টেম গড়তে চায়, যে সিস্টেমে আমরা পরিচিত না।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভোট দিবেন এখানে, আর এমপি হবে ঢাকায়? এই সিস্টেম কি আমরা মেনে নিতে পারি?” বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি এই পদ্ধতি মানবে না। একইসঙ্গে বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের পক্ষে, যা জামায়াতের নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবির বিপরীত।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি হিন্দু ভাইবোনদের বলতে চাই, আপনারা সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। এই আতঙ্কে আর থাকবেন না। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতে থাকব… বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সব একসঙ্গে, একজোট হয়ে এখানে বাস করব। আমরা এখানে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে দেব না।”