আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন মানুষের মন হতাশা ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই বড়দিনের আলোয় নতুন আশার প্রদীপ জ্বালালেন দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা। সিডনির রাজপথে রাজনীতির লড়াই ভুলে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সুবিধাবঞ্চিতদের সেবায়।
বৃহস্পতিবার সকালে সিডনির ‘রেভ বিল ক্রুস ফাউন্ডেশন’-এ এক ভিন্ন রূপে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজকে। হাতে চিমটা, পরনে এপ্রন আর গ্লাভস পরে তিনি সাধারণ মানুষের টেবিলে টেবিলে খাবার পৌঁছে দিচ্ছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন এনএসডব্লিউ প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস, যিনি নিজের ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করার পুরনো অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে করতে মানুষের পাতে হ্যাম ও আলু তুলে দিচ্ছিলেন।
কেন এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ? ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রেভ বিল ক্রুস বলেন, “এখানে আসা বেশিরভাগ মানুষেরই পরিবার নেই বা তারা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেন। বড় বড় নেতাদের এখানে আসা তাদের মনে সাহস জোগায়। এটি তাদের বোঝায় যে, জগতের সবচেয়ে নিচু স্তরের মানুষ হিসেবে যারা নিজেদের মনে করেন, তারাও আমাদের কাছে গুরুত্ব পান।”

স্বেচ্ছাসেবী ডায়ান কিং (যিনি ‘আন্টি ডি’ নামে পরিচিত), বিগত ১১ বছর ধরে এখানে রান্না করছেন। তিনি জানান, এখানে কেবল মানসিক সমস্যা বা নেশাগ্রস্তরাই আসেন না, বরং একাকী বৃদ্ধ এবং অভিবাসীরাও আসেন সংযোগের আশায়।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজের জন্য এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই তিনি এবং তাঁর ছেলে নিয়মিত এই কিচেনে কাজ করতেন। এদিন তিনি ফাউন্ডেশনের কাজের পরিধি বাড়াতে ১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “বিল ক্রুস আমার বন্ধু এবং তাঁর কাজ সরাসরি মানুষের জীবনে যে প্রভাব ফেলে, তা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।”
বন্ডি বিচে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর মানুষের মনে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, বড়দিনের এই আন্তরিক মিলনমেলা সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।