বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ডারউইন, ০১ জুন: বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার…
ফকির লালন শাহ রচিত বিখ্যাত মরমি গান ‘খাঁচা ছেড়ে অচিন পাখি’র কণ্ঠশিল্পী ও লোক সংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে শনিবার রাত সোয়া ১০টায় পরপারে পাড়ি জমান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ইমাম উপল।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, সপ্তাহে দুই দিন তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
লালন সংগীতের রাণী খ্যাত ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাঔঁল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন পেশায় ছিলেন সাধারণ চিকিৎসক। মা রৌফা বেগম।
ফরিদা পারভীনের প্রথম স্বামী প্রখ্যাত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী আবু জাফর। এরপর বাংলাদেশের বিখ্যাত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
সংগীতে হাতেখড়ি মাগুরায়
তার গানের শিক্ষাজীবনেরও হাতেখড়ি মাগুরা জেলায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। পরবর্তীতে তিনি কুষ্টিয়ার তখনকার গানের ওস্তাদ রবীন্দ্রনাথ রায়, মোতালেব বিশ্বাস এবং ওসমান গণি’র কাছে ক্ল্যাসিক্যাল শেখেন। প্রায় ছয়-সাত বছর তানপুরার সঙ্গে ক্ল্যাসিক্যাল চর্চা করার পর তিনি নজরুল সংগীত শিখতে শুরু করেন। তার নজরুল সংগীতের প্রথম গুরু হচ্ছেন কুষ্টিয়ার ওস্তাদ আবদুল কাদের। এরপর তিনি মেহেরপুরে মীর মোজাফফর আলীর কাছেও নজরুল সংগীত শেখেন। স্বরলিপি দিয়ে নজরুলের গান হারমোনিয়ামে ও কণ্ঠে তোলার কাজটি তিনি ওস্তাদ মীর মোজাফফর আলীর কাছেই প্রথম শেখেন।
১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুল সংগীত শিল্পী নির্বাচিত হন ফরিদা পারভীন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে লালন সাঁইজির গানের সঙ্গে ফরিদার যোগাযোগ। তখন তিনি কুষ্টিয়াতে থাকতেন। সেখানে তাদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন গুরু মোকছেদ আলী সাঁই। ১৯৭৩ সালে ফরিদা তার কাছেই ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শিক্ষার মাধ্যমে লালন সাঁইজির গানের তালিম নেন। পরে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের মৃত্যুর পর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছে লালন সঙ্গীতের শিক্ষা গ্রহণ করেন।
ফরিদা পারভীন শুধু লালনের গান নয়, তিনি একাধারে গেয়েছেন আধুনিক এবং দেশাত্মবোধক গান।
ফরিদা পারভীনের জনপ্রিয় গান
তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা-সুরমা নদীর তটে’ ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে প্রেমের কী সাধ আছে বলো’, ‘খাঁচার ভিতর’, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর’ ইত্যাদি।
পুরস্কার ও সম্মাননা
ফরিদা পারভীন ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান। ১৯৯৩ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচারাল প্রাইজ ২০০৮ এ সেরা সংগীতের জন্য পুরস্কৃত হন তিনি। এছাড়া সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ও অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার পেয়েছেন।