নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঢাকা: ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় আপত্তি জানিয়ে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাম ধারার চারটি রাজনৈতিক দল। দলগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আজ শুক্রবারের (১৭ অক্টোবর) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে যদি সনদের সংশোধিত খসড়া না পায়, তবে তারা সই করবে না।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় দলগুলো। দল চারটি হলো—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ।
আপত্তির মূল কারণ: সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শুধু সর্বসম্মত বিষয়গুলোই ঐকমত্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সনদে সর্বসম্মত বিষয়ের পাশাপাশি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেওয়া প্রস্তাবগুলোও যুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের দেওয়া ভিন্নমতের কারণ যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি।
বাম দলগুলোর আপত্তির প্রধান কারণগুলো:
১. ইতিহাসের ভুল উপস্থাপনা: সনদের প্রথম অংশে পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। বারবার সংশোধনী দেওয়ার পরও তা সন্নিবেশিত করা হয়নি।
২. স্বাধীনতার ভিত্তি বাদ: সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদে ক্রান্তিকালীন বিধানে ৬ষ্ঠ তফসিলের ‘ডিক্লারেশন অব ইনডিপেনডেন্স’ ও ৭ম তফসিলের ‘প্রক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্স’ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি, ফলে দেশের অস্তিত্বই থাকে না।
৩. ১০৬ অনুচ্ছেদ বাদ: অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার কথা পূর্ববর্তী খসড়ায় থাকলেও, চূড়ান্ত সনদে ১০৬ অনুচ্ছেদের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।
৪. মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন: সনদের অঙ্গীকারনামার ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘জুলাই সনদ নিয়ে কেউ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে না’, যা নাগরিকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ৫. সংবিধানে সংযোজন নিয়ে প্রশ্ন: বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রশ্ন তোলেন, ভিন্নমতসহ একটি দলিলকে কীভাবে সংবিধানের তফসিলে বা যথোপযুক্ত স্থানে যুক্ত করা সম্ভব হবে?
দাবি:বাম দলগুলো মনে করে, কমিশনের এত দিনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য হয়েছে, কেবল সেসব বিষয়েই সবার স্বাক্ষর নেওয়া উচিত। ভিন্নমতগুলো অতিরিক্ত (Annex) প্রতিবেদন হিসেবে সনদে সংযুক্ত থাকতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন।