হোহাই ইউনিভার্সিটি সিএসসি স্কলারশিপ ২০২৬
চীনের হোহাই ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ অর্থায়িত সিএসসি স্কলারশিপের আবেদন শুরু। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের সুযোগ-সুবিধা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রায় ৫০টি অতি গোপনীয় নথির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার গভীর রাতে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) মো. মিজানুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এসব গোপন নথি শেয়ার করেন। যদিও পিএস অল্প সময়ের মধ্যেই ফেসবুক স্টোরি থেকে নথিগুলো মুছে ফেলেন, ততক্ষণে অনেকে সেই ফাইলগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে নেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে শুরু করে।
ফেসবুকে প্রকাশিত ফাইলগুলোর মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত তথ্য-সংক্রান্ত সংবেদনশীল নথি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির প্রস্তাব–সংক্রান্ত নথি।
কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল ও চাকরির আবেদনপত্র।
শাস্তিমূলক তদন্ত প্রতিবেদন ও অডিট আপত্তির নথি।
শিক্ষার্থীদের মামলা–সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ব্যক্তিগত ছবি।
রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমি উপাচার্যের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলাম, এর কপি কেবল অফিসের গোপন নথিতে ছিল। অথচ সেই আবেদনপত্রের ছবি ফেসবুকে দেখা গেছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক গোপনীয়তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”
অভিযোগের বিষয়ে পিএস মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন শিক্ষক প্রথম আলো-কে বলেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা। তারা মন্তব্য করেন, গোপন নথির নিরাপত্তা, কাদের কাছে কোন তথ্যের অ্যাকসেস থাকবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এসব বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পষ্ট নীতিমালার অভাব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।