নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ মুফতি আমির হামজা; ভর্তি হাসপাতালে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচনি গণসংযোগকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ফুড পয়জনিং বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন।
জোট নাকি পরিকল্পনা? পদত্যাগপত্রে তাজনূভা জাবীন অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট কোনো তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এটি সুনিপুণভাবে আগে থেকেই সাজানো ছিল। তিনি লেখেন, “বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। এনসিপিকে জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, মধ্যপন্থার রাজনীতির কথা বলে এনসিপি আসলে জামায়াতের স্বকীয়তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি: দলের শীর্ষ নেতাদের ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘ভণ্ডামি’র সমালোচনা করে তাজনূভা বলেন, “এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এতো ব্যস্ত যে কখনো দেশের জন্য নতুন কোনো রাজনীতি করতে পারবে না।” তিনি আরও জানান, জুলাই বিপ্লবের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ এনসিপির দিকে তাকিয়ে ছিল, দলটির বর্তমান নেতৃত্ব সেই আদর্শ ধারণ করে না। বরং যারা নীতি কথা বলে, তাদের ‘আবেগী’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করা হয়।
নির্বাচন ও অনুদান ফেরত: ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির হয়ে লড়ার প্রস্তুতি নিলেও এই জোট ও প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে তিনি মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া নির্বাচনী অনুদান একে একে সবাইকে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
রাজনীতিতে নতুন গন্তব্য: অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে দল ছাড়লেও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লড়াই জারি রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. তাজনূভা জাবীন। তিনি মনে করেন, ‘মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থি’ রাজনীতির যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, সেটি পূরণে তিনি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবেন। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও এনসিপির এমন অগোছালো অবস্থায় দলটির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই এখন চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।