দ্রুততম ১৪ হাজার রানের পাশাপাশি কোহলির আরও রেকর্ড
ডারউইন, ১৫ মে: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন আগেই। তবে সীমিত ওভারের এই সংস্করণে এখনো কতটা ভয়ঙ্কর, সেটি এবারের আইপিএলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বিরাট কোহলি। বুধবার রায়পুরে কলকাতা…
রিও ডি জেনিরো: দুই বছর আগে উরুগুয়ের মিডফিল্ডার নিকোলাস দে লা ক্রুজের ধাক্কায় পাওয়া ভয়াবহ এসিএল চোটই কি ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের শেষ দৃশ্য ছিল? ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবরের সেই ঘটনার পর এখনো জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি ৪০ পেরোনো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো! এমন প্রশ্নই এখন ব্রাজিলের ফুটবল মহলে জোরদার হচ্ছে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের জন্য ‘জাতীয় দলের দরজা খোলা’ রাখলেও শর্ত দিয়েছেন, তাঁকে ‘পুরোপুরি ফিট হতে হবে’—যা গত দুই বছরে হয়নি। আগামী জুনে বিশ্বকাপ শুরু হলেও আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচেও নেইমারের ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
৩৩ বছর বয়সী নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সবচেয়ে বড় বাধা তাঁর শারীরিক অবস্থা। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উরুগুয়ের বিপক্ষে চোট পাওয়ার পর সর্বশেষ ৭৩১ দিনের মধ্যে ৫২৯ দিনই চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। অর্থাৎ, এ সময়ে ৭২ শতাংশ সময়ই তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে।
এসিএল চোটের কারণে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন। গত ১২ মাসে আল-হিলালে ফেরার পর আরও চারবার চোটে পড়েছেন, যার কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে ১৬২ দিন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সান্তোসে ফেরার পর ক্লাবটির ৩৭টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২১টিতে তাঁকে পাওয়া গেছে। নেইমারকে ছাড়া ব্রাজিল যে খুব খারাপ করছে, তা নয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়া ও রদ্রিগোরা ‘দশে মিলে করি কাজ’ মানসিকতায় খেলছেন। নেইমার চোট পাওয়ার পর ব্রাজিল ২৪ ম্যাচে ১০ জয় ও ৮ ড্রয়ের বিপরীতে ৬ হার দেখেছে এবং গোল করেছে ৩৭টি। এই দুই বছরে রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগো প্রত্যেকে ৫টি করে গোল করেছেন।
গত মে মাসে আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর একবার খেলার মধ্যে থাকা নেইমারকে স্কোয়াডে ডাকেননি। আনচেলত্তি প্রথমে ‘পূর্ণ ফিটনেস’ ও পরে ‘কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ বলে এর ব্যাখ্যা দেন। ‘ও গ্লোবো’র কলামিস্ট কার্লোস এদুয়ার্দো মানসুর মনে করেন, শারীরিক সুস্থতা এবং পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো কৌশলগত ফিটনেস এক নয়। নেইমার ড্রিবলিংয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে দৌড়ে পেরে উঠছেন না।
পরিবর্তিত ফরমেশন: আনচেলত্তির বর্তমান ছকে আক্রমণভাগ উইংয়ে খেলছে এবং পজিশন অদল-বদল করছে। ব্রাজিলের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নেইমারকে দলে জায়গা করে নিতে হলে উইংয়ে খেলতে হবে, কারণ মিডফিল্ডের ১০ নম্বর অবস্থানে তার মতো অত বড় তারকা না থাকলেও কয়েকজনকে তৈরি করেছেন কোচ।ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক লিওনার্দো মিরান্দার ভাষায়, “জাতীয় দলে নেইমারের জায়গা নিয়ে সন্দেহ নেই। সমস্যা হলো তাঁর শারীরিক অবস্থা… অন্য খেলোয়াড়েরা তাঁর চেয়ে বেশি যোগ্য।”সব মিলিয়ে, নেইমারের বয়স, দীর্ঘ চোট ইতিহাস এবং আনচেলত্তির কার্যকরী নতুন কৌশলের মুখে প্রশ্নটা জোরালো হচ্ছে: ২০২৬ বিশ্বকাপে কি নেইমারকে আর ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা যাবে?