ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া
ডারউইন, ১৫ মে: ঢাকার সঙ্গে মুম্বাইয়ের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’।…
মাদ্রিদ: গত ১২ অক্টোবর মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে এক মা তাঁর ১০ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউটায় পৌঁছানোর দুঃসাহসিক ঘটনাটি এখন মরক্কো ও স্পেনজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তাঁরা সেউটার তীরে পৌঁছালে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্পেনের স্থানীয় গণমাধ্যম এল ফারো দে সেউটা জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটি শক্ত করে একটি ভাসমান বোর্ড ধরে আছে এবং তার মা পাশে সাঁতরাচ্ছেন। তাঁরা দুজনই অত্যন্ত ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ডাইভিং স্যুট ও ফিন পরে তীরে পৌঁছান। স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠান এবং পরে সেউটার শরণার্থী গ্রহণকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এই বিপজ্জনক সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা মরক্কোর গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে। দেশটিতে বর্তমানে বেকারত্বের হার ১৩.৩ শতাংশ, যা তরুণদের মধ্যে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। চাকরির সুযোগ সীমিত থাকায় এবং ভালো ভবিষ্যতের আশায় মরক্কোর নাগরিকেরা ইউরোপমুখী হচ্ছেন।
তরুণদের আন্দোলন: ‘জেন জি ২১২’ নামের একটি সংগঠনের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক তরুণ আন্দোলনগুলো দেশের হতাশা ও অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের দাবিতে শত শত তরুণ মরক্কোর রাস্তায় নেমে এসেছেন।
বিপজ্জনক পথ: মরক্কো ও সেউটার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হওয়ায় অনেকেই সাঁতার কেটে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তীব্র স্রোত ও পাথুরে সৈকত সাঁতারুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন মরক্কোর নাগরিক সাঁতার কেটে সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
গবেষক আলী জুবাইদি বলেছেন, ক্রমেই বেশি সংখ্যক মরক্কোর নারী এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন, যা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি মনে করেন, সেউটায় সাঁতার কেটে পৌঁছানো শারীরিক ও মানসিক সাহসের পরিচায়ক, যা আগে কেবল পুরুষদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হতো। এখন নারীরাও প্রমাণ করছেন, তাঁরা সমানভাবে সক্ষম।
এদিকে সাগর পাড়ি দেওয়া সেই মা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই পথটি খুব কঠিন ছিল এবং স্রোত তাঁকে বারবার পাথরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। এই অভিজ্ঞতা কতটা কঠিন, তা চেষ্টা না করলে কেউ বুঝতে পারবে না।