যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ পবিত্র শবে বরাত
৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ দোয়া ও ওয়াজ মাহফিলের সময়সূচি।
ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এটি যেকোনো সময় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে এর নাম হবে ‘মন্থা’, যার অর্থ ‘সুগন্ধি ফুল’।
এই ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ নিয়ে আগ্রহ বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেন কে বা কারা? কেনই বা হয় এই নামকরণ? এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৫৩ সাল থেকে, যখন মায়ামির জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টারের উদ্যোগে আটলান্টিক অঞ্চলে এর সূচনা হয়। পরে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটিরিওলজিকাল অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউএমও) এর জন্য তালিকা তৈরি করে।
এশীয় অঞ্চলের নামকরণ: ডাব্লিউএমও এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসক্যাপ) ২০০০ সালে এর সদস্য দেশগুলোর পরামর্শ নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের নাম প্রস্তুত করার কাজ শুরু করে। প্রথমে ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ৮টি দেশ এই প্যানেলে ছিল।
২০১৮ সালে এই দলে ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন যুক্ত হয়ে সদস্য দেশের সংখ্যা হয় ১৩টি।
আগে ৮টি দেশ থেকে ৬৪টি নাম অনুমোদিত হতো। বর্তমানে ১৩টি দেশ প্রত্যেকে ১৩টি করে নাম দেওয়ায়, মোট ১৬৯টি নাম থেকে ক্রমানুসারে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। নামগুলো দেশগুলোর বর্ণানুক্রমিকভাবে (Alphabetical Order) নির্বাচন করা হয়। যেমন: ‘আম্ফান’ ছিল পুরোনো তালিকার শেষ নাম (থাইল্যান্ডের দেওয়া), এরপর বাংলাদেশের দেওয়া নাম ছিল ‘নিসর্গ’।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা: ভারত মহাসাগর, আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব আরএসএমসি (রিজিওনাল স্পেশালাইজড মিটিরিওলজিকাল সেন্টার) কে দেওয়া হয়েছে।
১৯০০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নাম মেয়েদের নামের ওপর ভিত্তি করে করা হতো। এই নিয়ে মজার যুক্তি ছিল যে আবহাওয়াবিদরা মনে করতেন, মেয়েদের নাম সহজ হয়, যা মনে রাখাও সহজ।
১৯ শতকের মাঝামাঝি মার্কিন সেনা ও আবহাওয়াবিদরা মেয়েদের নামে ঝড়ের নামকরণ চালু করেন। প্রথম ঝড়ের নাম ‘এ’ দিয়ে, দ্বিতীয়টির নাম ‘বি’ দিয়ে রাখতেন, যার ফলস্বরূপ বিগত সবগুলো ঝড়ের নামই মেয়েদের নামে নামকরণ করা হয়েছিল। এই নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ১৯ শতকের শেষে দক্ষিণ গোলার্ধের আবহাওয়াবিদরা পুরুষের নামে নামকরণ শুরু করেন।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নামকরণ করা হলেও, বিভিন্ন দেশের প্রবণতা ভিন্ন। যেমন: ভারত এ পর্যন্ত ৮টি ঝড়ের নামকরণ করেছে, যার মধ্যে মাত্র একটি মেয়েদের নাম (বিজলি)। অন্যদিকে, পাকিস্তান ৮টির মধ্যে ৭টি (তিতলি, নার্গিস) এবং বাংলাদেশ ৭টির মধ্যে ৩টি (চপলা, হেলেন, নিশা) মেয়েদের নাম দিয়েছে।
ঝড়ের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত নাম সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা ও মিডিয়ার পক্ষে তথ্য দেওয়া কঠিন। তাই ছোট নাম রাখা হয়, যাতে সতর্কতাগুলো সহজেই সবাই বুঝতে পারে।
স্টর্ম বনাম সাইক্লোন: যখন হাওয়া ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে ট্রপিকাল স্টর্ম বলা হয়। আর গতি ঘণ্টায় ১১৯ কিলোমিটারের বেশি হলে তাকে ট্রপিকাল সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।