যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ পবিত্র শবে বরাত
৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ দোয়া ও ওয়াজ মাহফিলের সময়সূচি।
রাজশাহী: ক্যামেরা হাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান রাজশাহীর তরুণ দম্পতি ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা। প্রকৃতিপ্রেমী এই দম্পতি দীর্ঘ এক দশকে ৪২৬ প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন। উম্মে খাদিজার তোলা পাখির ছবির সংখ্যাও চার শতাধিক। সম্প্রতি তাঁদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দেশে বিলুপ্ত ঘোষিত মিঠাপানির কুমিরের ছবি, যা নিয়ে বন্যপ্রাণী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বিরল পাখি গ্রে ফ্যালারোপ
বিরল পাখি ও নতুন প্রজাপতির আবিষ্কার
পদ্মার চরাঞ্চল এই দম্পতির প্রিয় বিচরণভূমি। গত বছর ১ এপ্রিল পদ্মার চর থেকে তাঁরা এমন একটি পাখির ছবি তোলেন, যা পরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা গ্রে ফ্যালারোপ বা ধূসর ফ্যালারোপ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এটি বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল পাখি।
পাখির পাশাপাশি এই দম্পতি প্রজাপতি, সাপ ও ব্যাঙকেও ক্যামেরাবন্দী করেছেন:
প্রায় এক দশকে ৪২৬ প্রজাতির পাখি, ২২ প্রজাতির ব্যাঙ এবং ৩০ প্রজাতির সাপকে ক্যামেরাবন্দী করেছেন তাঁরা।

তাঁরা প্রায় ৩০০ প্রজাতির প্রজাপতির ছবি তুলেছেন। এর মধ্যে চারটি প্রজাতি বাংলাদেশে আগে তালিকাভুক্ত হয়নি, যা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এগুলো হলো—ওয়েভি ম্যাপলেট (Chersonesia intermedia), ব্রাইট বাবল ব্লু (Azanus ubaldus), অটাম লিফ (Doleschallia bisaltide) এবং আনব্রোকেন সার্জেন্ট (Athyma pravara)।
ইমরুল কায়েস জানান, দেশের প্রজাপতি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের এই আবিষ্কারগুলোর জন্য অভিবাদন জানিয়েছেন।
পদ্মার চরে বিলুপ্ত ঘোষিত কুমির
গত ১৬ অক্টোবর পদ্মাচরের কাশবনে লাল মুনিয়া পাখির ছবি তুলতে গিয়েছিলেন কায়েস-খাদিজা। সে সময় বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরের ফোনে পদ্মায় কুমির দেখার খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে কুমিরের খোঁজে ড্রোন ওড়ান কায়েস।

উত্তেজিত উম্মে খাদিজা সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “কিছু দূর হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে জীবনে প্রথম প্রকৃতিতে সামনাসামনি কুমির দেখলাম। কায়েস ড্রোন দিয়ে কিছু ভিডিও নিল। আমি ক্যামেরায় কিছু ছবি তুললাম, ভিডিও করলাম।” প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা আইইউসিএন কর্তৃক বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষিত এই কুমিরের ছবি ও ভিডিও নিয়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।
বজ্রপাত ও টেনিস বলের শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা
উত্তরবঙ্গের বাইরে সিলেট অঞ্চলেও তাঁরা নিয়মিত ছবি তোলেন। এ বছর মার্চে মৌলভীবাজারের পাথারিয়া রেঞ্জের বনে গিয়ে প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ দেখেন তাঁরা।
নিশাচর প্রাণীদের ছবি তুলতে বেরোনোর পর হঠাৎ শুরু হয় শিলাবৃষ্টি, যেখানে একেকটি শিলা ছিল টেনিস বলের সমান। একটানা ২০-২৫টি বাজ পড়ে। গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে ছোট্ট একটি ছাউনির ওপর, যেখানে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের তাণ্ডবের মধ্যে তাঁরা নিজেদের বাঁচিয়ে রাখেন।
ঝড় থামার পর চাঁদ ওঠার স্মৃতিচারণ করে খাদিজা বলেন, “মনে হলো এই তো প্রকৃতির আসল রূপ; ভয়, সৌন্দর্য, শান্তি—সব একসঙ্গে দেখিয়ে দিল।”

প্রেম ও বিবাহের পর ছবি তোলার নতুন দিগন্ত
রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ইমরুল কায়েস এবং রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে উম্মে খাদিজার পড়াশোনার সময় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে তাঁদের পরিচয় হয়। ডিসকভারি চ্যানেলের পোকা কায়েসের সঙ্গে খাদিজাও ক্যামেরায় ছবি তোলায় আগ্রহী হন।
ছবি তুলতে তুলতে তাঁদের মন দেওয়া-নেওয়ার পর্ব শেষ হয় ২০২২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে। খাদিজা বলেন, “পরিবার থেকে দুর্গম এলাকায় যেতে দুশ্চিন্তা করত, বাধাও দিত। বিয়ের পর সেই বাধা আর থাকল না।”
এই দম্পতি বর্তমানে নিজেদের পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং ২০১৯ সাল থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে উত্তরাঞ্চলে প্রকল্পভিত্তিক কাজ করছেন। নিজেদের ভালো লাগার কাজ, অর্থাৎ প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে এখন তাঁরা একটি বাণিজ্যিক ভিত্তি দিতে চান।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো